Wednesday, January 2, 2019

বিশুদ্ধ আক্বিদা (২য় পর্ব)

❒ বিশুদ্ধ আক্বিদা (২য় পর্ব)
----------------------------------------------
ইসলামী শরী‘আত দুই ভাগে বিভক্ত। যথাঃ
(১) আক্বীদা বা বিশ্বাসগত : অর্থাৎ ঈমানের ছয়টি বিষয়ের উপর সুদৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা এবং একমাত্র তারই ইবাদতে বিশ্বাস করা। আর ইহাই ইসলামের মৌলিক বিষয়।
(২) আমলগত : অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত করার
যাবতীয় পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তদনুযায়ী আমল করা।
অতএব আক্বীদাই ইসলামের মৌলিক বিষয়; যার শুদ্ধতার উপর আমল নির্ভরশীল। যেমন –

✍ মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

ﻓَﻤَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺮْﺟُﻮْ ﻟِﻘَﺎﺀَ ﺭَﺑِّﻪِ
ﻓَﻠْﻴَﻌْﻤَﻞْ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﺻَﺎﻟِﺤًﺎ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﺸْﺮِﻙْ ﺑِﻌِﺒَﺎﺩَﺓِ ﺭَﺑِّﻪِ ﺃَﺣَﺪًﺍ -
‘যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে ও তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে’ (কাহফ ১৮/১১০) ।

✍ তিনি অন্যত্র বলেনঃ

ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺃُﻭْﺣِﻲَ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻭَﺇِﻟَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﻣِﻦْ ﻗَﺒْﻠِﻚَ ﻟَﺌِﻦْ ﺃَﺷْﺮَﻛْﺖَ ﻟَﻴَﺤْﺒَﻄَﻦَّ
ﻋَﻤَﻠُﻚَ ﻭَﻟَﺘَﻜُﻮْﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳْﻦَ -
‘তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই অহী হয়েছে যে, তুমি যদি আল্লাহর সাথে কোন শরীক স্থির
কর, তবে তোমার আমল বরবাদ হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (যুমার ৩৯/৬৫) ।

✍ তিনি আরও বলেনঃ

ﻭَﻟَﻮْ ﺃَﺷْﺮَﻛُﻮْﺍ ﻟَﺤَﺒِﻂَ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮْﺍ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮْﻥَ
‘যদি তারা শিরক করত তবে তাদের আমল বরবাদ হয়ে যেত’ (আন‘আম ৬/৮৮) ।
উল্লিখিত আয়াত সমূহ থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, শিরক মুক্ত বিশুদ্ধ আক্বীদা ব্যতীত আল্লাহর নিকটে কোন আমল কবুল হবে না। অতএব আমল করার পূর্বে আক্বীদা সংশোধন করা অপরিহার্য।

❒ মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তির মূলেই রয়েছে আক্বীদাগত পার্থক্যঃ
আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতির সার্বিক জীবন পরিচালনার যাবতীয় বিধি-বিধান নাযিল করে একমাত্র
তারই অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তা অনুসরণের ক্ষেত্রে পরস্পরে দলাদলী বা বিচ্ছিন্ন হ’তে নিষেধ করেছেন। আর এই নির্দেশ আক্বীদাগত ঐক্যের নির্দেশ। এই নির্দেশ পালনের মাধ্যমে মানুষ মুসলিম হয় এবং পরকালে জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে প্ররিত্রাণ লাভ করে ও জান্নাতের অফুরন্ত নে‘আমত লাভের পথ সুগম করে। পক্ষান্তরে উক্ত নিষেধ অমান্য করে ভ্রান্ত আক্বীদায় বিশ্বাসী হওয়ার মাধ্যমে মানুষ ইহুদী, খৃষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, রাফেযী, খারেজী, শী‘আ, মু‘তাযিলা বিভিন্ন ভ্রান্ত দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে জান্নাতের অফুরন্ত নে‘মত থেকে বঞ্চিত হয় এবং জাহান্নামের কঠিন আযাব গ্রহণের পথ সুগম করে। আমরা যারা নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করি, একই কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে ছালাত আদায় করি, তারাও আজ শতধাবিভক্ত। নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করেও ‘ওয়াহদাতুল উজূদ’-এর মত ভ্রান্ত আক্বীদায় বিশ্বাসী হওয়ার মাধ্যমে নিজেরাই আল্লাহ বনে যাই; নাউযুবিল্লাহ।

কেউবা মুহাম্মাদ (সঃ)- কে আল্লাহ বলি, আবার কেউ আলী (রাঃ)- কে আল্লাহ বলি। এ সমস্ত ভ্রান্ত আক্বীদা তাদের মৌখিক স্বীকৃতির অসারতা প্রমাণ করে। তদানীন্তনকালের কাফির মুশরিকরা তাওহীদে রুবূবিয়্যাত তথা আল্লাহকে একক সৃষ্টিকর্তা হিসাবে বিশ্বাস করলেও ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক
বলে বিশ্বাস করেনি। তারা মূর্তিপূজার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাছিলের চেষ্টা করত। অনুরূপভাবে অধিকাংশ মুসলিম তাওহীদে রবূবিয়্যাতকে বিশ্বাস করলেও
তাওহীদে ইবাদত ও আসমা ওয়াছ ছিফাতকে পূর্ণভাবে বিশ্বাস করতে পারেনি। কবর পূজা ও পীরপূজার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাছিল করতে চায়। আর এই আক্বীদাগত বিভক্তির কারণেই মুসলমানরা (উম্মতে মুহাম্মাদী) ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, যার মধ্যে একটি মাত্র
দল জান্নাতে প্রবেশ করবে।

✍ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেনঃ

ﻟَﻴَﺄْﺗِﻴَﻦَّ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﻣَّﺘِﻲْ ﻣَﺎ ﺃَﺗَﻰ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﻨِﻲْ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴْﻞَ ﺣَﺬْﻭَ ﺍﻟﻨَّﻌْﻞِ ﺑِﺎﻟﻨَّﻌْﻞِ
ﺣَﺘَّﻰ ﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﺃُﻣَّﻪُ ﻋَﻼَﻧِﻴَﺔً ﻟَﻜَﺎﻥَ ﻓِﻲْ ﺃُﻣَّﺘِﻲْ ﻣَﻦْ
ﻳَﺼْﻨَﻊُ ﺫَﻟِﻚَ ﻭَﺇِﻥَّ ﺑَﻨِﻲْ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴْﻞَ ﺗَﻔَﺮَّﻗَﺖْ ﻋَﻠَﻰ ﺛِﻨْﺘَﻴْﻦِ ﻭَﺳَﺒْﻌِﻴْﻦَ ﻣِﻠَّﺔً
ﻭَﺗَﻔْﺘَﺮِﻕُ ﺃُﻣَّﺘِﻲْ ﻋَﻠَﻰ ﺛَﻼَﺙٍ ﻭَﺳَﺒْﻌِﻴْﻦَ ﻣِﻠَّﺔً ﻛُﻠُّﻬُﻢْ ﻓِﻲْ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﺇِﻻَّ ﻣِﻠَّﺔً
ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻭَﻣَﻦْ ﻫِﻰَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻲْ -
‘বানী ইসরাঈলের উপর যেমন অবস্থার আগমন
ঘটেছিল আমার উম্মতের উপরেও তেমন অবস্থার আগমন ঘটবে; এক জোড়া জুতা পরস্পর সমান হওয়ার ন্যায়। এমনকি যদি বানী ইসরাঈলদের মধ্যে এমন লোক থাকে, যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল, তাহ’লে আমার উম্মতের মধ্যেও এমন লোক পাওয়া যাবে যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। বানী ইসরাঈলরা বিভক্ত হয়েছিল ৭২টি দলে; আর আমার উম্মত বিভক্ত হবে ৭৩টি দলে। সব দলই জাহান্নামে প্রবেশ করবে, একটি দল ব্যতীত। ছাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)!
সে দল কোনটি? তিনি বললেন, আমি এবং আমার অনুসারীগণ যার উপরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছি, এর উপর যারা প্রতিষ্ঠিত থাকবে (তারাই মুক্তিপ্রাপ্ত দল)।

অতএব বিশুদ্ধ আক্বীদাই ইহকালে মুসলমানদের
পরস্পরের মধ্যে ঐক্যের একমাত্র পথ এবং পরকালে মুক্তির একমাত্র উপায়। একে অপরের আক্বীদা সংশোধনের মাধ্যমেই মুসলিম ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। নবী-রাসূলগণের সকলেই সর্বপ্রথম মানুষের
আক্বীদা সংশোধনের দাওয়াত দিয়েছেন। আক্বীদা সংশোধনের পরেই কেবল তাকে ছালাত, ছিয়াম সহ ইসলামের অন্যান্য বিধান মানার নির্দেশ দিয়েছেন।

✍ রাসূলুল্লাহ (সঃ) মু‘আয (রাঃ)- কে ইয়ামানে প্রেরণকালে বলেছিলেনঃ

ﺍﺩْﻋُﻬُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺷَﻬَﺎﺩَﺓِ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ، ﻭَﺃَﻧِّﻲْ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ، ﻓَﺈِﻥْ ﻫُﻢْ
ﺃَﻃَﺎﻋُﻮْﺍ ﻟِﺬَﻟِﻚَ ﻓَﺄَﻋْﻠِﻤْﻬُﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻗَﺪِ ﺍﻓْﺘَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺧَﻤْﺲَ ﺻَﻠَﻮَﺍﺕٍ
ﻓِﻲْ ﻛُﻞِّ ﻳَﻮْﻡٍ ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔٍ، ﻓَﺈِﻥْ ﻫُﻢْ ﺃَﻃَﺎﻋُﻮْﺍ ﻟِﺬَﻟِﻚَ ﻓَﺄَﻋْﻠِﻤْﻬُﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ
ﺍﻓْﺘَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﻓِﻲْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ، ﺗُﺆْﺧَﺬُ ﻣِﻦْ ﺃَﻏْﻨِﻴَﺎﺋِﻬِﻢْ ﻭَﺗُﺮَﺩُّ
ﻋَﻠَﻰ ﻓُﻘَﺮَﺍﺋِﻬِﻢْ -
‘সেখানকার অধিবাসীদেরকে এ সাক্ষ্য দানের প্রতি আহবান জানাবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তা মেনে নেয় তবে তাদেরকে অবগত কর যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয করেছেন। যদি সেটাও তারা মেনে নেয় তবে তাদেরকে অবগত কর যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর তাদের সম্পদে ছাদাক্বাহ (যাকাত) ফরয করেছেন। যেটা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত হবে আর দরিদ্রের মাঝে বণ্টন করা হবে’।

আলোচ্য হাদীছ থেকে বুঝা যায় যে, সর্বপ্রথম মানুষের আক্বীদা সংশোধনের দাওয়াত দিতে হবে। কেননা আক্বীদাই হ’ল ইসলামের মৌলিক বিষয়। আক্বীদা সংশোধনের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশের
পরেই ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ, যাকাত সহ ইসলামের যাবতীয় বিধান মেনে চলতে হবে। অন্যথা তার ইবাদত আল্লাহর নিকট কবুল হবে না।

✍ মহান আল্লাহ বলেনঃ

ﻭَﻗَﺪِﻣْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﺎ ﻋَﻤِﻠُﻮْﺍ ﻣِﻦْ ﻋَﻤَﻞٍ ﻓَﺠَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُ ﻫَﺒَﺎﺀً ﻣَﻨْﺜُﻮْﺭًﺍ -
‘আমি তাদের (কাফিরদের) কৃতকর্মের প্রতি লক্ষ্য করব, অতঃপর সেগুলিকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকণায় পরিণত করব’
(ফুরক্বান ২৫/২৩) ।

✍ অন্যত্র তিনি বলেনঃ

ﻭَﻣَﺎ ﻣَﻨَﻌَﻬُﻢْ
ﺃَﻥْ ﺗُﻘْﺒَﻞَ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻧَﻔَﻘَﺎﺗُﻬُﻢْ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﻛَﻔَﺮُﻭْﺍ ﺑِﺎﻟﻠﻪِ ﻭَﺑِﺮَﺳُﻮْﻟِﻪِ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺄْﺗُﻮْﻥَ
ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻫُﻢْ ﻛُﺴَﺎﻟَﻰ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﻨْﻔِﻘُﻮْﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻫُﻢْ ﻛَﺎﺭِﻫُﻮْﻥَ -

তাদের (কাফিরদের) দান গ্রহণ করা নিষেধ করা হয়েছে এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করে, ছালাতে শৈথিল্যের সাথে উপস্থিত হয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে দান করে’ (তওবা ৯/৫৪) ।

উপসংহার : পরিশেষে বলবো, কোন দালান যেমন
ভিত্তি স্থাপন করা ব্যতীত দাঁড় করানো সম্ভব নয়। তেমনি ভিত্তি ব্যতীত ইসলামের উপর টিকে থাকাও সম্ভব নয়, আর ইসলামের মৌলিক ভিত্তিই হ’ল আক্বীদা। মানুষ তার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সেই মৌলিক ভিত্তির উপরেই টিকে থাকবে। তার জীবনের সবকিছুকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করবে।

✍ মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ

, ﻗُﻞْ ﺇِﻥَّ ﺻَﻠَﺎﺗِﻲْ ﻭَﻧُﺴُﻜِﻲْ ﻭَﻣَﺤْﻴَﺎﻱَ ﻭَﻣَﻤَﺎﺗِﻲْ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ
ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴْﻦَ - ﻟَﺎ ﺷَﺮِﻳْﻚَ ﻟَﻪُ ﻭَﺑِﺬَﻟِﻚَ ﺃُﻣِﺮْﺕُ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃَﻭَّﻝُ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴْﻦَ - ‘
বল আমার ছালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও
আমার মরণ জগৎ সমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তাঁর কোন শরীক নাই এবং আমি এর জন্যই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম’ (আন‘আম
৬/১৬২-১৬৩) ।

অতএব দুনিয়াবী জীবনের সকল কর্মকান্ডে একমাত্র লক্ষ্য থাকবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জান্নাত লাভ করা। আর মানুষের কর্মকান্ডে আল্লাহ সন্তুষ্ট
হবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত তার আক্বীদা ছহীহ না হবে। সুতরাং সঠিক আক্বীদাই পরকালীন জীবনে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়।
আল্লাহ আমাদের ছহীহ আক্বীদা বুঝার এবং সে মতে চলার তাওফীক্ব দিন-আমীন!
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

বিশুদ্ধ আক্বিদা (১ম পর্ব)


----------------------------------------------

সুচনাঃ

আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে আশরাফুল মাখলূকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন। মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ পেশ করে আক্বীদা বা বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই।

ইহা এমন এক ভিত্তি, যাকে অবলম্বন করেই মানুষ তার সার্বিক জীবন পরিচালনার গতিপথ নির্ধারণ করে। আক্বীদা বা বিশ্বাস যার বিশুদ্ধ নয় তার সম্পূর্ণ জীবনটাই বৃথা। কারণ মানব জীবনের মূল চাবিকাঠি হল তার আক্বীদা বা বিশ্বাস; যার আলোকে মানুষ তার সকল কর্ম সম্পাদন করে থাকে।

ইহা এমন এক অতুলনীয় শক্তি, যার উপর ভর করে নিজের জীবনটুকু বিলিয়ে দিতেও সে কুণ্ঠাবোধ করে না। ভিত্তি স্থাপন ব্যতীত কোন বিল্ডিং বানানো যেমন অসম্ভব, তেমনি বিশুদ্ধ আক্বীদা ব্যতীত নিজেকে মুসলিম দাবী করাও অসম্ভব।

প্রতিটি কথা ও কর্ম যদি বিশুদ্ধ আক্বীদা বা বিশ্বাস থেকে নির্গত না হয় তবে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।

মানবজাতির যাবতীয় পথভ্রষ্টতার মূলে রয়েছে তার মৌলিক আক্বীদা থেকে বিচ্যুত হওয়া। তাই সঠিক

আক্বীদাই পরকালীন মুক্তির একমাত্র উপায়। অতএব বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে জানা অপরিহার্য।



❒ আক্বীদার পরিচয়ঃ

শাব্দিক অর্থ : ﻋﻘﻴﺪﺓ(আক্বীদা) শব্দটি আরবী ﻋﻘﺪﺓ (উক্বদাতুন) শব্দ থেকে উদ্গৃত। যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- গিরা বা বাঁধন। যেমন কুরআনে বর্ণিত হয়েছে ﻋُﻘْﺪَﺓُ ﺍﻟﻨِّﻜَﺎﺡِ অর্থাৎ "বিবাহের বাঁধন’ (বাক্বারাহ ২/২৩৭) ।

পারিভাষিক অর্থ : সাধারণভাবে সেই সুদৃঢ় বিশ্বাসকেই আক্বীদাহ বলা হয়; যার উপর ভিত্তি করে মানুষ তার জীবন পরিচালনা করে। আর ইসলামী আক্বীদা বলতে বুঝায়- আল্লাহর রুবূবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত ও আসমা ওয়াছ ছিফাতের উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা। তাঁর

ফেরেশতামন্ডলী, নবী-রাসূলগণ, তাঁদের উপর

নাযিলকৃত কিতাব সমূহ, আখেরাত বা পরকাল

এবং তাক্বদীরের ভাল-মন্দের উপর সন্দেহ মুক্ত দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।


❒ সঠিক আক্বীদা পোষণের গুরুত্বঃ

(ক) আক্বীদা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের প্রধান স্তম্ভঃ


আক্বীদা তথা আল্লাহর একত্বে পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের প্রথম স্তম্ভ।


✍ ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,



ﺑُﻨِﻰَ ﺍﻹِﺳْﻼَﻡُ ﻋَﻠَﻰ ﺧَﻤْﺲٍ ﺷَﻬَﺎﺩَﺓِ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ

ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﺇِﻗَﺎﻡِ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﻭَﺇِﻳْﺘَﺎﺀِ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓِ ﻭَﺍﻟْﺤَﺞِّ ﻭَﺻَﻮْﻡِ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ

‘ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। ১. আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সঃ) আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। ২. ছালাত ক্বায়েম করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হজ্জ সম্পাদন করা এবং ৫. রামাযানের ছিয়াম পালন করা’।

অতএব ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার প্রধান মাধ্যম হ’ল, ছহীহ বা বিশুদ্ধ আক্বীদা, যা পরকালীন মুক্তির সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী হাতিয়ার।

(খ) বিশুদ্ধ আক্বীদাই কুরআন মানার মাধ্যমঃ

আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতির জন্য ইসলামকে একমাত্র দ্বীন হিসাবে মনোনীত করে ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান অহী মারফত নাযিল করেছেন। মানুষ তার
সার্বিক জীবন কিভাবে পরিচালনা করবে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সম্পর্কে কেমন আক্বীদা পোষণ করবে? এর সবকিছুই কুরআনে যথাযথভাবে বর্ণিত হয়েছে।
কুরআনের এমন কোন সূরা নেই যেখানে তাওহীদ
সম্পর্কে আলোচনা করা হয়নি। তাই বলা যায়
যে, সম্পূর্ণ কুরআনই তাওহীদ। কেননা কুরআনের
সর্বত্রই আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এবং আল্লাহর সাথে কোন ব্যক্তি বা বস্ত্তকে শরীক করা থেকে বিরত থেকে এক আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। অথবা তাতে আল্লাহর একনিষ্ঠ তাওহীদপন্থী বান্দাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে উত্তম প্রতিদান দানের কথা বলা হয়েছে এবং তাঁর নাফরমান কাফির মুশরিকদের শাস্তির সংবাদ দেওয়া হয়েছে। অথবা তাতে পূর্ববর্তী নবীগণের একনিষ্ঠ অনুসারীদের উপর আল্লাহর সাহায্যের কথা বলা হয়েছে এবং নবীগণকে অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর নাযিলকৃত গযবের কথা বলা হয়েছে। যেমন- পবিত্র কুরআনে নূহ (আঃ), হুদ (আঃ), ছালেহ (আঃ), ইবরাহীম (আঃ)-এর কওমের উপর আনীত সাহায্য ও শাস্তির কথা বিবৃত হয়েছে। অথবা তাতে হালাল ও হারামের কথা বলা হয়েছে, যা তাওহীদের হক সমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহর তাওহীদপন্থী বান্দারা কুরআনে বর্ণিত হালালকে হালাল এবং হরামকে হারাম বলে বিশ্বাস করবে। হালাল উপার্জন করবে এবং হারাম উপর্জন থেকে যেকোন মূল্যে বিরত থাকবে। অতএব বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণের মাধ্যমেই পূর্ণরূপে কুরআন
মানা সম্ভব।

(গ) বিশুদ্ধ আক্বীদা ইসলামে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যমঃ
আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতির জন্য ইসলামকে একমাত্র দ্বীন হিসাবে মনোনীত করেছেন। এতদ্ভিন্ন কোন দ্বীন আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।

✍ আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﺒْﺘَﻎِ ﻏَﻴْﺮَ ﺍﻟْﺈِﺳْﻼَﻡِ ﺩِﻳْﻨًﺎ ﻓَﻠَﻦْ ﻳُﻘْﺒَﻞَ
ﻣِﻨْﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻓِﻲْ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳْﻦَ - ‘
যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন অন্বেষণ করবে তার থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আলে-ইমরান ৩/৮৫) ।

আর ইসলামে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম হ’ল
আক্বীদা ছহীহ হওয়া। কারণ ইসলামের মৌলিক বিষয় হ’ল আক্বীদাহ। আক্বীদা বা বিশ্বাসই মানুষকে পথভ্রষ্ট করে এমনকি ইসলাম থেকে বের করে দেয়।
যেমন –

আক্বীদাগত কারণে একজন মানুষ তার সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গিয়ে নিজ হাতে বানানো মূর্তির পূজা করে, তাকেই পরকালে নাজাতের অসীলা মনে করে, তার বিরুদ্ধে অবস্থানকারী নিজ সন্তান হ’লেও তাকে হত্যা করার মত ঘৃণিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ইবরাহীম (আঃ) মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাঁর পিতা কর্তৃক হত্যার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। আল্লাহর বিশেষ রহমতে আগুনের প্রচন্ড তাপ তাঁর জন্য শীতল ও আরামদায়ক হয়েছিল। অথচ ঐ সকল মূর্তি পরকালে তাদের কোনই উপকার
করতে পারবে না; বরং তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে।

✍ আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬُﻭْﺍ ﻣِﻦْ ﺩُﻭْﻥِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺁﻟِﻬَﺔً ﻟِﻴَﻜُﻮْﻧُﻮْﺍ ﻟَﻬُﻢْ ﻋِﺰًّﺍ، ﻛَﻼَّ ﺳَﻴَﻜْﻔُﺮُﻭْﻥَ ﺑِﻌِﺒَﺎﺩَﺗِﻬِﻢْ ﻭَﻳَﻜُﻮْﻧُﻮْﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺿِﺪًّﺍ -
‘তারা আল্লাহ ব্যতীত বহু মা‘বূদ গ্রহণ করেছে, যাতে তারা তাদের সাহায্যকারী হ’তে পারে। কখনই নয়,
তারা তাদের ইবাদতের কথা অস্বীকার করবে এবং তাদের বিপক্ষে চলে যাবে’ (মারইয়াম ১৯/৮১-৮২)।

✍ তিনি অন্যত্র বলেনঃ

ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﻧَﺤْﺸُﺮُﻫُﻢْ ﺟَﻤِﻴْﻌًﺎ ﺛُﻢَّ ﻧَﻘُﻮْﻝُ ﻟِﻠَّﺬِﻳْﻦَ ﺃَﺷْﺮَﻛُﻮْﺍ ﻣَﻜَﺎﻧَﻜُﻢْ ﺃَﻧْﺘُﻢْ
ﻭَﺷُﺮَﻛَﺎﺅُﻛُﻢْ ﻓَﺰَﻳَّﻠْﻨَﺎ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺷُﺮَﻛَﺎﺅُﻫُﻢْ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺇِﻳَّﺎﻧَﺎ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭْﻥَ -
ﻓَﻜَﻔَﻰ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﺷَﻬِﻴْﺪًﺍ ﺑَﻴْﻨَﻨَﺎ ﻭَﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﺇِﻥْ ﻛُﻨَّﺎ ﻋَﻦْ ﻋِﺒَﺎﺩَﺗِﻜُﻢْ ﻟَﻐَﺎﻓِﻠِﻴْﻦَ -
‘আর যেদিন আমি তাদের সকলকে একত্রিত
করব, অতঃপর যারা শিরক করেছে তাদেরকে বলব, তোমরা ও তোমাদের শরীকরা নিজ নিজ জায়গায়
দাঁড়িয়ে যাও। অতঃপর আমি তাদেরকে আলাদা করে দিব। তখন তাদের শরীকরা বলবে, তোমরা তো আমাদের ইবাদত করতে না। সুতরাং আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট। আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের ইবাদত সম্পর্কে গাফেল ছিলাম (জানতাম না)’ (ইউনুস ১০/২৮-২৯) ।

✍ তিনি অন্যত্র আরও বলেনঃ
ﻭَﻗِﻴﻞَ
ﺍﺩْﻋُﻮْﺍ ﺷُﺮَﻛَﺎﺀَﻛُﻢْ ﻓَﺪَﻋَﻮْﻫُﻢْ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺴْﺘَﺠِﻴْﺒُﻮْﺍ ﻟَﻬُﻢْ ﻭَﺭَﺃَﻭُﺍ ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏَ ﻟَﻮْ
ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﻛَﺎﻧُﻮْﺍ ﻳَﻬْﺘَﺪُﻭْﻥَ -
‘আর বলা হবে, তোমরা তোমাদের দেবতাগুলোকে ডাক, অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, তখন তারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে না। আর তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে। হায়! এরা যদি সৎপথ প্রাপ্ত হ’ত’ (কাছাছ ২৮/৬৪) ।

✍ তিনি অন্যত্র বলেনঃ

ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﻧَﺎﺩُﻭْﺍ ﺷُﺮَﻛَﺎﺋِﻲَ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺯَﻋَﻤْﺘُﻢْ ﻓَﺪَﻋَﻮْﻫُﻢْ ﻓَﻠَﻢْ
ﻳَﺴْﺘَﺠِﻴْﺒُﻮْﺍ ﻟَﻬُﻢْ ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﻣَﻮْﺑِﻘًﺎ - ﻭَﺭَﺃَﻯ ﺍﻟْﻤُﺠْﺮِﻣُﻮْﻥَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭَ
ﻓَﻈَﻨُّﻮْﺍ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﻣُﻮَﺍﻗِﻌُﻮْﻫَﺎ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺠِﺪُﻭْﺍ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻣَﺼْﺮِﻓًﺎ -
‘আর যেদিন তিনি বলবেন, তোমরা ডাক আমার শরীকদের, যাদেরকে তোমরা (শরীক) মনে করতে। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে না। আমি তাদের মাঝে রেখে দিব ধ্বংসস্থল। আর অপরাধীরা আগুন দেখবে। অতঃপর
তারা নিশ্চিতরূপে জানতে পারবে যে, নিশ্চয়ই তারা তাতে নিপতিত হবে এবং তারা তা থেকে বাঁচার কোন পথ খুঁজে পাবে না’ (কাহাফ ১৮/৫২-৫৩) ।

✍ তিনি অন্যত্র বলেনঃ

ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺟِﺌْﺘُﻤُﻮْﻧَﺎ ﻓُﺮَﺍﺩَﻯ ﻛَﻤَﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺮَّﺓٍ ﻭَﺗَﺮَﻛْﺘُﻢْ ﻣَﺎ ﺧَﻮَّﻟْﻨَﺎﻛُﻢْ
ﻭَﺭَﺍﺀَ ﻇُﻬُﻮْﺭِﻛُﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﻧَﺮَﻯ ﻣَﻌَﻜُﻢْ ﺷُﻔَﻌَﺎﺀَﻛُﻢُ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺯَﻋَﻤْﺘُﻢْ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ
ﻓِﻴْﻜُﻢْ ﺷُﺮَﻛَﺎﺀُ ﻟَﻘَﺪْ ﺗَﻘَﻄَّﻊَ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﻭَﺿَﻞَّ ﻋَﻨْﻜُﻢْ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﺰْﻋُﻤُﻮْﻥَ -
‘আর নিশ্চয়ই তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ হয়ে এসেছ, যেরূপ আমি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদেরকে যা দান করেছিলাম, তা তোমরা ছেড়ে এসেছ তোমাদের পিঠের পেছনে। আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সুপারিশকারীদের দেখছি না, যাদেরকে তোমরা মনে করেছিলে যে, নিশ্চয়ই তারা তোমাদের মধ্যে (আল্লাহর) অংশীদার। অবশ্যই ছিন্ন হয়ে গেছে তোমাদের পরষ্পরের সম্পর্ক। আর তোমরা যা ধারণা করতে, তা তোমাদের হ’তে হারিয়ে গেছে’ (আন‘আম ৬/৯৪) ।

✍ তিনি অন্যত্র বলেনঃ

ﺇِﻧَّﻜُﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭْﻥَ ﻣِﻦْ ﺩُﻭْﻥِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺣَﺼَﺐُ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻟَﻬَﺎ ﻭَﺍﺭِﺩُﻭْﻥَ،
ﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻫَﺆُﻻَﺀِ ﺁﻟِﻬَﺔً ﻣَﺎ ﻭَﺭَﺩُﻭْﻫَﺎ ﻭَﻛُﻞٌّ ﻓِﻴْﻬَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪُﻭْﻥَ
‘তোমরা এবং আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত কর সেগুলি তো জাহান্নামের ইন্ধন,
তোমরা সকলেই এতে প্রবেশ করবে। যদি এরা ইলাহ হ’ত তাহ’লে এরা জাহান্নামে প্রবেশ করত না, তাদের সকলেই এতে স্থায়ী হবে’ (আম্বিয়া ২১/৯৮-৯৯) ।
(চলবে)
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

Monday, December 31, 2018

Thirty First Night

আসসালামু-আলাইকুম আশা করি সবাই ভালো আছেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছু কথা বলি।
আমরা বর্বরতার যুগে বাস করছি, কোরআনের জ্ঞান নাই বললেই চলে; কোরআন পড়ি না, কোরআন বুঝি না এবং বোঝার চেষ্টা করি না।

আজকের দিনে মুসলিমদের দেখলে বড়ই দুঃখ লাগে আফসোস হয়, যে আমরা কোথাই আছি।


যাই হোক মূল কথাই ফিরে আসি।
বর্তমানে কিছু বিষয় আমাদের মাঝে দেখা যায় যে, আমরা বলে থাকি, বা ফেসবুক প্রোফাইলে লিখে রাখি, আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (সঃ) ভালোবাসি বা আনুগত্য করি । এমন কিছু টাইপ এর বাণী শুনে থাকি বা লিখে রাখি।

আমার প্রশ্নঃ সত্য সত্যিই কি আমরা অন্তর থেকে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (সঃ) কে ভালোবাসি?

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কুরআনুল কারীমে যা বলেছেনঃ
২ সূরা আল-ইমরানঃ ১৪৯ এবং ১৫০।

 يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا الَّذِينَ كَفَرُوا يَرُدُّوكُمْ عَلَىٰ أَعْقَابِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ

হে মু’মিনগণ ! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর তবে, তাহারা তোমাদেরকে বিপরীত দিকে ফিরাইয়া দিবে এবং তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া পড়িবে।

بَلِ اللَّهُ مَوْلَاكُمْ ۖ وَهُوَ خَيْرُ النَّاصِرِينَ

আল্লাহই তো তোমাদের অভিভাবক এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।

আমরা যদি সত্যিকার অর্থেই আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (সঃ) কে অন্তর থেকে ভালোবাসতাম তাহলে, এই বর্বর কাফের, ইহুদী-নাছারা এবং মোশরেকদের মতো দিবস, জন্ম দিবস, এ-দিবস, সে-দিবস, আরো কত যে দিবস; এই দিবস পালন করতাম না।

মুসলমানদের জন্য খুশির দিন হচ্ছে দুই দিন তা হচ্ছে দুই ঈদ। ১) ঈদুল ফিতর । ২) ঈদুল আযহা।
একটু চিন্তা করে দেখুন তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কি বলছেন সূরা আল-ইমরানে ১৪৯?
আল্লাহ সুবানাতায়ালা আমাদেরকে অর্থাৎ মুমিনদের কে ”সতর্ক করছে” যাতে আমরা কাফেরদের অনুসরণ না করি। এটা আল্লাহ তালা বলছেন অন্য কেউ নয়। এটা আল্লাহর কথা।
কখনো কি চিন্তা করেছেন এটা কত বড় কথা?
তারপরে আল্লাহ তালা আমাদেরকে বলে দিচ্ছে তারা আমাদেরকে ক্ষতি করবে, এবং তাই করছে।
কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি না যে ক্ষতিটা কী!

আজকের দিনে আমরা কাফের, ইহুদী-নাছারা এবং মোশরেকদের আনুগত্য করতে গিয়ে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (সঃ) কে ভুলে গেছি।

আজকে আমরা আনুগত্য করছি, কাফের, ইহুদী-নাছারা এবং মোশরেকদের দিবস; পালন করছি #থার্টি ফার্স্ট নাইট” (Thirty First Night)।


একজন মুসলিম হিসেবে কষ্ট লাগে আরেকজন মুসলিমের এই কাজগুলা দেখে। দুঃখ হয়, কষ্ট হয় ।



তারপরে আল্লাহ তালা আমাদের সু-সংবাদ দিচ্ছে (সূরা আল-ইমরান ১৫০) আমি তোমাদের অভিভাবক ” আল্লাহর কাছে ফিরে আসার আহ্বান”। এর থেকে বোঝা যায় যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের কতোটা ভালোবাসেন। কতোটা ভালোবাসা নিয়ে কথাটা বলেছেন।
এক মাত্র তিনিই আমাদের সাহায্যকারী। অর্থাৎঃ ভুল করলে, তাঁর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি অবশ্যই আমাদেরকে সাহায্য করবেন।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সবাইকে বোঝার মত তাওফিক দান করুন ।

Friday, October 19, 2018

সৎ পাত্রী ও পাত্র চয়ন




সৎ পাত্রী চয়ন

স্ত্রী হচ্ছে স্বামীর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের উপকরণ ও তার সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্র। স্ত্রী স্বামীর জীবন সংগিনী, তার ঘরের রাণী, তার সন্তানের মা, তার হৃদয়ের আকর্ষণ এবং তার মনের মানসী।

স্ত্রী-ই পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংগ। কেননা, তার মাধ্যমেই সন্তানের ভবিষ্যত আভিজাত্য নির্ধারিত হয়। সন্তান মায়ের মত গুণ-স্বভাবে গুণান্বিত হয়, মায়ের কোলেই লালিত হয়। সন্তানের কোমল মনােবৃত্তিসমূহ, তার স্বভাব প্রতিভাসমূহ এবং বিকশিত হয় তার মাতৃভাষা ।  সন্তান মায়ের কাছেই গ্রহণ করে তার আচার-আচরণের বহুলাংশ, পরিচিতি লাভ করে তার দীন তার আকীদা-বিশ্বাসের এবং অভ্যাস রপ্ত করে সামাজিক শিষ্টাচারের।

এ সব কারণে ইসলাম ভাল স্ত্রী গ্রহণের বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং তাকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ উপভােগ্য বিষয় ধার্য করে তার সম্পর্কে পূর্ব অবগতি লাভে ও সৎ পাত্রী। চয়নে অনুপ্রাণিত করেছে।

সৎ পাত্র চয়ন

অভিভাবকের কর্তব্য তার নয়ন মণি'র জন্য পাত্র বাছাই করে নিবে। সুতরাং পাত্রের দীনদারী, নীতি-চরিত্র, আভিজাত্য ও সৎ-স্বভাব বিবেচনা করে কন্যা সম্প্রদান করবে। ফলে সে স্ত্রীর সঙ্গে জীবন যাপন করলে সদাচরণের জীবন যাপন করবে, কিংবা বিদায় করলে সৌজন্যের সংগে বিদায় করবে।


রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তােমাদের কাছে এমন কোন ব্যক্তি (বিয়ের প্রস্তাব) নিয়ে আসে যার দীনদারী ও চরিত্র তােমরা পসন্দকর, তখন তার কাছে বিয়ে দিয়ে দাও! যদি তােমরা তা না কর তবে পৃথিবীতে সংকট ও ব্যাপক বিশৃংখলা দেখা দিবে। (তিরমিযী ও আহমাদ)


নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তারা যাদের মহর সহজে
আদায়যােগ্য। (তাবারানী)

তােমাদের শ্রেষ্ঠ নারী সন্তানবতী, প্রেমময়ী, যারা পর্দার অন্তরালবর্তী, পরিবারের আদরের পাত্রী, স্বামীর অনুগতা, জীবন সঙ্গীর সান্নিধ্যে প্রসাধনকারিণী, অপর জনদের হতে আত্মসংরক্ষণকারিণী, যে স্বামীর কথা শুনে তা মেনে চলে এবং স্বামীর সংগে নির্জন বাসকালে তার উদ্দেশ্যের কাছে নিজেকে নিবেদন করে এবং পুরুষের ন্যায় নিবেদিতা হয় না। (আতুসী)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "খাযরাউদ দামিন" পতিত ও পরিত্যক্ত ভূমির সবুজ শ্যামল হতে তােমরা সাবধান! বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহু (সঃ) 'খাযরাউ দামিন' কি? তিনি বললেনঃ

المرأة الحسناء في المنبت السوء
মন্দ জন্ম ক্ষেত্রের সুন্দরী নারী (গােবরে পদ্মফুল)।

ثلاثة كلهم حق على الله عز وجل عونه المجاهد في سبيل الله ولنا ادم
اكح يستعف والمكاتب يريد الاداء..


তিন ব্যক্তির প্রত্যেককে সাহায্য করা মহীয়ান-গরীয়ান আল্লাহর নিজ দায়িত্বে। (১) আল্লাহর পথের মুজাহিদ (২) চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিয়ে করতে আগ্রহী ব্যক্তি এবং (৩) মুক্তি আদায়ের সদিচ্ছা সম্পন্ন মুকাতাব দাস। যে দাস নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়েমুক্ত হওয়ার ব্যাপারে তার মালিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ)  ।(হাকিম)

R-Quran 

Sunday, July 15, 2018

বর্তমানে একটি ট্রেন্ড চালু আছে, মানুষ স্পষ্ট হারাম কাজ জড়িত সঙ্গে আল্লাহকে ধন্যবাদ, এবং সাহায্য কামনা করা হয়।

বর্তমানে একটি ট্রেন্ড চালু আছে, মানুষ স্পষ্ট হারাম কাজ জড়িত সঙ্গে আল্লাহকে ধন্যবাদ, এবং সাহায্য কামনা করা হয়।
যেমন:

✪আলহামদুলিল্লাহ আমার মেয়ে বাংলাদেশী আইডলে চস পেয়েছেন। ইনশাল্লাহ এখন ব্যাংকের জব হয়ে যাবে। "
✪ভাই দোয়া করবেন ব্যাংক থেকে এখন লোনটা হয়ে গেছে।
✪মা'স'আল্লাহ, আন্টি তোমার মেয়েকে দারুন নাচতে জানে "...
হ্যাঁ আলহামদুলিল্লাহ স্কুল ডান্স প্রতিযোগিতায় সে প্রথম হয়েছে
✪ (এক ছেলের কলিগের স্ত্রীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে) ভাবি, আর বাজেনা আপনি যে সুন্দর মাসা আল্লাহ
✪আনশাআল্লাহ এবারে আর্জেন্টিনা ওয়াল্ডের কাপ জিতলে আমি নাম্বার পড়া শুরু করবো
✪মা'স'আল্লাহ আপনার ছেলের গালে হলুদ অনুষ্ঠান দারুণ হ'ল - যা ডান্স করেছেন জোয়ান বুড়ো সবাই। হ্যাঁ দোয়া কর যেন দ্বিতীয় ছেলের বিয়েটাও এমনভাবে পালন করা হয়,
✪ (ছেলে-মেয়ে মিক্স ফ্রেন্ড চক্রকে উদ্দেশ্য করে) আলহামদুলিল্লাহ আমার ফ্রেন্ডসরা হেল্প ফুল।
✪মশাল্লাহ তো আপনি এমনিতে সুন্দর দেখেন, দাড়ি রাখজে কেন?
✪মশাল্লা আমার মেয়েটা এত সুন্দরী যে সব মানুষ তার দিকে তাকিয়ে আছে,
এক অংকের বললাম,
✪ শুনলাম অকন্য ভাইয়ের ছেলের দলে রহমমমমমম মজুমদারের চাকরি হয়ে গেছে, গাড়ি এসে তাকে নিয়ে গেছে!
✪চোর চুরি করার সময় আল্লাহকে ডাকতে যেন ধরা পড়ে না।
✪ বেল্লা গার্ডেন বসে প্রেমিক তার প্রেমিকাকে বেগানা পুরুষের সামনে পর্দা করতে অযথিত করে
✪ ফরজ নামাজ পরে (সমাপনী) বিদাতি মোনাজাতে বিদাত মুক্ত হয়ে দোয়া করে।
নিজে সার্ট প্যান্ট পরে কোট টাই ওয়ালাকে ঈহুদী খ্রিস্টান এর দালাল বলে ফতোয়া দেই
মুসলিম হিন্দু বন্ধুকে পরীক্ষার জন্য দোয়া চাচ্ছিলেন, তবে হিন্দু বন্ধু কে আবেদনের জন্য?
হজুর বলছে, একমাত্র রাসূল (সা :) এর তরিকায় জীবন পরিচালনা করতে হবে, কিন্তু হজুর বন শুরু করা বালাগাল ওলব্য দিয়ে ,,,,,
✪ বলছে বাংলায় বোখের পড়তে যাবেনা, তবে বাংলায় ফজেইয়েল, বেহেস্তি জওর, ইত্যাদি পড়ার জন্য দাওয়াত করা ,,,,,
✪ না বুঝতে পারলে, বিছমিল্লা গলদ। অথচ, তিনি চিন্তায় না নাই "বিছমিল্লাহ" অর্থ কি? কথাটার মানে কি দড়াল?
✪ ফেইসবুকে নিউজ, আফগানিস্তান ২00 হাফেজ শহীদ হয়েছে, আর বলছে আমিন লিখবেন না অথচ, "আমিন" অর্থ এটা তাই ই। মোরার সংবাদ শোনার পরেও বলছেন আমিন। বিস্ময়।
✪ তাবিজের মত নিশ্চিত শরবরে কাজে কোরআনের আয়াত ব্যবহার করা হচ্ছে যেন ধোকা দেওয়া যায়, বিছমিল্লাহ বললে কি খেতে হবে তা কি হালাল?
কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ,,,,,
✪ বুড়ি মা পুরাই পর্দাশিন, কিন্তু তার মেয়ে আর সাথে বসেই অর্ধনগ্ন
✪ এক ভাই হোটেল ক্যাশিয়ার স্ত্রীকে বসিয়ে টাব্লিগে গলে ,,,,,,
✪ হজুর জর্দা খায় এবং সাধারণ মানুষকে বোঝা যায় ম্যাক্রো, বোঝার জন্য জয়েজ >> অথচ ম্যাক্রো মানেই নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অপছন্দনীয় কাজ মুসলমান হয়ে কিভাবে?
✪ আরেকজন বিশ্বাসীকে দেখেছি, প্রতিবার নামায আদায় করার আগেই সিজারেট টেনে নিলাম, তারপর মেছুওয়াক করে ওযু।
✪ মানুষ পশাবের সন্নিকটে পানি থাকলেও ঢিলা কুলুব ব্যবহার করে, তবে কিসের ব্যবহার করা হলে আজোও জানতে হবে না,
প্রতিদিন ভেজাল দুধ খাওয়া খাওয়া, একদিন পিউর খেয়ে বলছে একদিনের ভেজাল, ঠিক একইভাবে সারা জীবন ভুল ভ্রান্তি ইবাদত কোরআন হাদিসের দলিল সংশোধন করে দিলেই বলবে নতুন নতুন ইবাদত কোথায় পাও? অথচ কোরআন হাদীসে এখনো প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু কেউ দেখেনি।
✪ হিন্দু পাণ্ডিত সারা জীবন গীতার পড়া এবং পড়াইতে যেমন মোহাম্মদ (সা :) এর নাম খোজে পাইনি, আমাদের দেশে কিছু আলেম 40 বছর বুখারী পড়তেও নামায সঠিক নিয়ম পাইনি।



দাজ্জালের এক পাশে রাখা জান্নাত, অন্য পাশে জাহান্নাম। আমরা দাজ্জালের জান্নাতকেই হ'ল দয়াময় মনে মনে করেছি এখন আমাদের এই অবস্থা, না জানি তার আগমনের কি হবে আমাদের

# বিদ্রোহ: এগুলো বলছে কেউ কেউ নিকুটে বা ব্যঙ্গ করা আমার উদ্দেশ্য নয়। সত্যই আমাদের সমাজে যেমন আমিও সমাজের অংশ, তাই এই সমালোচনামূলক পোস্টে আমি সর্বদাই 'আমরা / আমাদের' শব্দ ব্যবহার করছি। এগুলি থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত।]

Friday, July 6, 2018

The Prophet Muhammad ﷺ said that “All's well that ends well”



The Prophet Muhammad ﷺ said that “All's well that ends well”
What is ends well? 
Ends well is Kalima
The person who can say The Kalima before the death, He went to Jannah.


প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ বলেছেনঃ শেষ ভালো যার সব ভালো তার।
আমাদের ”শেষ ভালো” এর উপর ভরসা করতে হবে।প্রথম ভালো হলে যে শেষ ভালো হবে এটা বোকার পরিচয়। 


কথার কথা বলছিঃ “দুনিয়াতে একটা জিনিস দেখা যায় যে, সন্তান প্রথম বছরে ইউনিভার্সিটি তে ভাল রেজাল্ট করল পরে সন্ত্রাস হয়ে বের হল” এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে, প্রথমে যে ভালো আছে, এই ভালোই ভালো নয়। প্রথম ভালো থেকে শেষ ভালো পর্যন্ত টিকে থাকা। শেষ রক্ষাই রক্ষা।


শেষ ভালোটা কী?


শেষ ভালোটা হচ্ছে কালেমা “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ” 
যে ব্যক্তি এই কালেমা মৃত্যুর আগে বলতে পারলো, সে জান্নাতে চলে গেলো।


যে কথাটা বলার জন্য এতো কিছু বলা সেই কথাই আসা যাকঃ


মূল বক্তব্যেঃ সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু। 


”সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করতে চাওয়া”


”সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে কী হবে তা আমি জানি না। আল্লাহ সুবহানাতায়ালাই ভালো জানেন।


হয়তো বা আপনার দোয়া ”সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু বরণ” দেখা গেল আপনার ”সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু হলো কিন্তু কালেমা বলতে পারলেন না।


প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুর আগে কালেমা বলতে পারলো, সে জান্নাতে চলে গেলো।আর মৃত্যুটাই হচ্ছে শেষ।তার পরে ব্যক্তি স্বাধীনতা আর থাকবে না। 


তাই আমাদের দোয়া করা উচিত, যেন শেষ মুহূর্তে আমরা ”শেষ ভালোটা” অর্থাৎ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ” নিয়ে যেতে পারি। 




কালেমার মূল্যঃ 


হযরত মুহাম্মদ ﷺ বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে সকলের সামনে ডাকা হবে, সকলের সামনে উপস্থিত করে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার ৯৯টি বদ আমলনামা পেশ করবেন। তার সারা জীবনের যত কুকর্ম আছে, সারা জীবনের যত অপরাধ আছে, এগুলোর হিসাবের যে দপ্তর, সেটার ৯৯টি দপ্তর আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার সামনে উপস্থিত করবেন। যার একএকটি দপ্তর চোখের যতদূর চোখ যায়…….. ততদূর পর্যন্ত বৃহৎ…….. এত বড় হবে একএকটি দপ্তর।এই রকম ৯৯টি দপ্তর হাজির করবেন। ওই ব্যক্তির এত বেশি অপরাধ ছিল।


এর পর আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলবেন, এই যে দপ্তর গুলোতে যা লিখা আছে তুমি এই সব করেছ বলে আমার ফেরেশতা সংরক্ষণ করেছেন, এই ফেরেশতাদের লিখা তাদের সংরক্ষিত এই হিসাব,এর বিষয়ে তোমার কোন সন্দেহ আছে কি? বা এর কোনটি কি তুমি অস্বীকার কর? আল্লাহর আদালতে তার জবানবন্দি নেওয়া হবে।তখন সেই ব্যক্তি বলবে সকলের সামনে, যে না আল্লাহ আপনার ফেরেশতা কোন কিছু বাড়িয়ে লিখে নাই।আমি কোনটিকে অস্বীকার করছি না।এর সবই আমার কৃতকর্ম।


তখন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাকে বলবেনঃ 
তুমি এতো অপরাধ করলে, 
এতো অন্যায় করলে তোমার কী কোন ”অজর আছে” বা তোমার কী কোন বক্তব্য, তোমাকে কী কেউ করতে বাধ্য করছে, বা তোমার কী কিছু বলার আছে?


তখন সে বলবে না আল্লাহ। কেউ আমাকে বাধ্য করে নাই আমি নিজেই করেছি। এবং আজকে আমার কোন বক্তব্য পেশ করার মতো নাই আপনার সামনে।


তখন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলবেনঃ হাঁ তোমার একটি ভাল কাজ আছে আমার কাছে।নিশ্চয়ই আজ তোমার প্রতি অবিচার করা হবে না। যেটুকু ভাল কাজ করেছ তার প্রতিদান পাবে। 


তখন এক টুকরো কাগজ বের করা হবে, যেখানে লিখা থাকবে কলেমা।আল্লাহ বলবেন যে, তোমার মধ্যে এই বিশ্বাস ছিল।অর্থাৎ কালেমার বিশ্বাস।


তখন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলবেন তোমার আমল মাপা হবে, আসো..! হাজির হওয়, সামনে আসো, কাছে আসো।


৯৯টি দপ্তর একপাশে থাকবে এবং কালেমা এক পাশে থাকবে। অর্থাৎ মিজানে আমল মাপা হবে। 


তখন সেই ব্যক্তি বলবে, হে আল্লাহ কী লাভ হবে এই পরিমাপ করে, এই বিশাল আমার অপরাধের যে পাহাড়, সেটার বিপরীতে এই একটি কাগজের টুকরো কি আর হবে আল্লাহ? নিরাশ হয়ে যাবে লোকটি।


তখন আল্লাহ বলবেনঃ যাই হোকনা কেন, তোমার প্রতি অন্যায় অবিচার অন্তত করা হবে না। 
এতএব, তুমি প্রত্যক কর, দেখ তোমার বিচারের কি হয়। এবং তখন এক পাশের পাল্লাই সব অপরাধের আমলনামা রাখা হবে এবং অন্য পাল্লাই ওই এক টুকরো কাগজ, যাতে লিখা আছে কালেমা সেটা রাখা হবে, কালেমার পাল্লা বেশি ভারী হবে।”সুবাহানাল্লাহ”


আপনি এখন ভেবে দেখুন যে কোনটার মূল্য বেশি?
”সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করতে চাওয়া”
না কি?
”শেষ ভালোটা” অর্থাৎ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ”


আমাদের দোয়া করা উচিত, চিন্তা ভাবনা করে বেশি সময় নিয়ে, জাতে করে আমরা
আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে থেকে সবচেয়ে দামি জিনিসটা চাইতে পারি, সেই তাওফিক দান করুক সবাইকে।


এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার জন্য, ভালো ভাবে জানতে হবেঃ মৃত্যু আজাব, কবর, নেককার বান্দার মৃত্যু, বদকার বান্দার মৃত্যু, যা বলা হয়েছে আল কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে।এগুলো জানলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

Saturday, February 10, 2018

আমরা কী সত্যিই মুসলিম না কি নামে মুসলিম?



আমরা কী সত্যিই মুসলিম না কি নামে মুসলিম?

হ্যাঁ আমরা মুসলিম নামে মুসলিম।
এক জন মুসলিম হিসাবে আমাদের কি করার কথা বলা হয়েছে আর আমরা কি করছি...
আমার গর্ব করে বলি আমার মুসলিম, আগে মুসলিম হন তার পরে বলেন যে আমি মুসলিম।

আমি কিছু মানুষকে প্রশ্ন করেছিলাম যে,,
আপনি কেন মুসলিম?
এক জন মুসলিম হিসাবে আপনার কি করা উচিত?
আর আপনি কি করছেন?
অনেকেই অনেক ধরনের কথা বললেন।
কিছু মানুষ চুপ করে ভাবে।
কেউ বলে মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়েছি তাই মুসলিম।

এর আগে এক জন বলছে যে, তাহলে আমাকে কী মুসলিম হতে হবে?
হ্যাঁ: অবশ্যই আপনাকে মুসলিম হতে হবে।
যদি বলেন কেন আমি মুসলিম হবো? আমি তো মুসলিম ঘরের সন্তান আমাকে মুসলিম হতে হবে কেন?

হুম, আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম। যদি বলেন কেন?

আমার জন্মের পর থেকে দেখে আসছি যে, আমাদের দাদা দাদী, নানা নানী, বাবা মা এইটা করছে, বাবা বলছে এটা করো, মা বলছে এটা করো। সেটাই দেখে আমার তাদেরকে অনুসরণ অনুকরণ করছি।

এই যদি আপনি ইহুদি নাসারা বা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের ঘরের সন্তান হতেন?
তাহলে ঠিক তাদেরকেই আপনি অনুসরণ অনুকরণ করতেন। এটাই সত্য।

সর্ব প্রথম আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার কাছে শুকরিয়া আদায় করুন যে, আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আপনাকে মুসলিম ঘরে জন্ম দিয়েছেন।

ইসলামের মৌলিক ৫টি স্তম্ভ হলোঃ-
১) কালেমা শাহাদাত।
"লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌।" স্বাক্ষ‍্য দেয়া।
২) সালাত।
সালাতকে বলা হয় দ্বীনের খুঁটি। খুঁটি ছাড়া যেমন ঘর হয় না, তেমনি সালাত ব্যতীত দ্বীন পরিপূর্ণ হয় না।
প্রত্যেক বালেগ নর-নারীর উপর সালাত ফরজ করা হয়েছে।
৩) সাওম।
৪) হজ্ব ।
৫) যাকাত।

সর্ব প্রথম আপনাকে ঈমান আনতে হবে এক কালেমা "লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌।" স্বাক্ষ‍্য দেয়া। প্রথমে আপনার অন্তরে কালেমার বিজ বপন করতে হবে এবং আল্লাহর আদেশ নির্দেশ, হুকুম আহকাম গুলো যথাযথ ভাবে পালন করতে হবে।

একটা গাছকে জন্ম দিতে হলে আপনাকে কি করতে হবে প্রথমে?
জায়গা নির্বাচন করতে হবে।
তারপরে ধাপে বিজ বপন করতে হবে।
যখন বিজ থেকে গাছ হবে। তখন আপনাকে গাছটাকে যত্ন নিতে হবে। যাতে করে কেউ বিনষ্ট না করতে পারে।
একটা গাছ দাঁড়িয়ে থাকে তার কান্ডর উপরে।
আস্তে আস্তে গাছটা বড় হবে। একটা পর্যায়ে ফুল ফল হবে গাছে।

মূল গল্পে আসা যাক:

• জায়গা নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে আপনি কে? কি করতে আসছেন এই পৃথিবীতে? কেন আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? যদি আপনি বোঝেন নিজেকে তাহলে আমাকে বিজ বপন করতে হবে।
• ‎
• ‎তারপরে ধাপে "বিজ বপন করতে হবে"। অর্থাৎ কালেমা শাহাদাত।
"লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌।"অন্তর থেকে মনে প্রাণে স্বাক্ষ‍্য দিতে হবে।

• যখন বিজ থেকে গাছ হবে। তখন আপনাকে গাছটাকে যত্ন নিতে হবে। যাতে করে কেউ বিনষ্ট না করতে পারে। আস্তে আস্তে গাছটা বড় হবে। অর্থাৎ আপনি যখন ঈমান আনবেন আপনার উপর ঝড়-ঝাপটা আসবে। শয়তানের বিভিন্ন কুপ্রবৃত্তি আসতে পারে। নিজের ঈমানকে ঠিক রাখতে হবে।
• ‎একটা গাছ দাঁড়িয়ে থাকে তার কান্ডর উপরে। অর্থাৎ কান্ড হচ্ছে আপনার সালাত। একটা গাছ যেমন কান্ড ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না । তেমনি ভাবে, সালাত ছাড়া আপনি ঈমান ঠিক রাখতে পারবেনা। সালাতকে ধরে রাখতে হবে।
• ‎আর "ফুল ফল" হচ্ছে আপনার আমল।
• ‎এক জন মুসলিমের অবশ্যই  রমযান মাসে সাওম পালন করতে হবে।
• ‎হজ্ব এবং যাকাত যার উপর ফরজ তারাই শুধু আদায় করবে।

• আমরা মুখেই শুধু বলি যে আমরা মুসলিম, অন্তরে বলি না।
কিছু মানুষের ফেসবুকে প্রোফাইলে দেখি।
I Love Allah.
I Love Mohammad (S). And etc.
এগুলা ওই ভাবেই লিখে রাখি শুধু, কাজের বেলায় দেখা যায় কী?
আমরা অনুসরণ অনুকরণ করি ইহুদি নাসারা দের। আপনি দেখেন এদের ফেসবুক যে কাকে অনুসরণ করছে?

• আজকের দিনে আপনি দেখুন চারিদিকে, পুরুষ এর কি অবস্থা, পুরুষ এর পেন্ট খুলে নিচে চলে যাচ্ছে। চুল দাড়ি এর যে কতো মডেল। ইহুদি নাসারা যে ভাবে স্টাইল করে, সেইটা করি আমরা। আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।

 • নারীর কি অবস্থা। যত দিন যাচ্ছে ততই নারী উলঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। কাকে দেখে এগুলো শিখছে ? ইহুদি নাসারা দের দেখে নিজেকে উলঙ্গ করছে।
 ‎আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।
 ‎
 • আমরা অশ্লীল ভিডিও ছবি কিছুই মনে করি না। এখন P.G 13
 ‎এগুলোকে কেউ পাপ মনে করি না।
 ‎আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।
 ‎
 • Ramp Show:
 ‎নিজের নগ্নতা তুলে ধরছি বিশ্বের কাছে। এইটা নাকি সৌন্দর্য্য।
 ‎আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।
 ‎
• সন্তানদের গান বাজনা, নাচ শিক্ষা দিচ্ছি।
 ‎আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।
 ‎
• মানুষের দোষ ত্রুটি খুঁজে বের করার জন্য উঠে পড়ে লাগি।
 ‎আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।

আমরা আল্লাহ্ এবং আল্লাহর রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে অনুসরণ অনুকরণ করি না।
করি ইহুদি নাসারা দের।
 ‎
 ‎আপনি নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করেন... তাই তো?
 ‎এক কালেমার উপর কি ঈমান এনেছেন?
 ‎সেই অনুসারে কি আপনি চলেন?
 ‎

আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলছেনঃ-
সূরা আল ইমরান (১০২)
يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَموتُنَّ إِلّا وَأَنتُم مُسلِمونَ

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।

আপনি একটু ভেবে দেখুন যে আপনি কী সত্যিই মুসলিম? নাকি নামে মুসলিম?
এক জন মুসলিমের যা করা উচিত তা কি আপনি করেন বা করার চেষ্টা করেন?

আল্লাহ বলেছেন যে, "মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।" আপনি কি আল্লাহর কথা বুঝতে পারছেন? আল্লাহ কি বলছেন? কতো বড় একটা কথা।

সূরা আল বাকারাহ্ঃ ৮,৯,১০
আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়।

তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না।

তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন।

বিঃদ্রঃ আপনার আমার থেকে অনেক বড় জ্ঞান  বিদ্যা বুদ্ধিতে দয়া করে ভুল ত্রুটি থাকলে সংশোধন করে দিবেন। আমরা জ্ঞান এর পরিসীমা অনেক ক্ষুদ্র।

Sunday, January 28, 2018

মৃত্যুর সংবাদ

#_মৃত্যুর পূর্বে ৪ জন ফেরেশতা যেভাবে জানিয়ে দিবে #_মৃত্যুর_সংবাদ

হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন মানুষের অন্তিমকাল উপস্থিত হয় এবং রূহ বের হবার সময় ঘনিয়ে আসে, তখন চারজন ফেরেশতা তার কাছে উপস্থিত হয়। সর্বপ্রথম এক ফেরেশতা উপস্থিত হয়ে বলবেন “আসসালামু আলাইকুম” হে অমুক! আমি তোমার খাদ্য সংস্থানের কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন পৃথিবীর পূর্ব থেক পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অন্বেষণ করেও তোমার জন্য এক দানা খাদ্য সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং বুঝলাম তোমার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে হয়ত এখনই তোমাকে মরণ সুধা পান করতে হবে। পৃথিবীতে তুমি আর বেশীক্ষণ থাকবে না।

অত:পর দ্বিতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পানীয় সরবরাহের জন্য নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু এখন তোমার জন্য পৃথিবীর সবৃত্র অন্বেষণ করেও এক ফোঁটা পানি সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং আমি বিদায় হলাম।

অত:পর তৃতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পদযুগলের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু পৃথিবীর সর্বত্র ঘুরেও তোমার জন্য একটি মাত্র পদক্ষেপের স্থান পেলাম না। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।

চতুর্থ ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহ বান্দা! আমি তোমার শ্বাস-প্রস্বাস চালু রাখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু আজ পৃথিবীর এমন কোন জায়গা খুঁজে পেলাম না  যেখানে গিয়ে তুমি মাত্র এক পলকের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করতে পার। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।

অত:পর কেরামান কাতেবীন ফেরশতাদ্বয় এসে সালাম করে বলবেন, হে আল্লাহর বান্দা! আমরা তোমার পাপ-পূণ্য লেখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন দুনিয়ার সব জায়গা সন্ধান করেও আর কোন পাপ-পূণ্য খুঁজে পেলাম না। সুতরাং আমরা বিদায় নিচ্ছি। এই বলে তারা এক টুকরা কালো লিপি বের করে দিয়ে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! এর দিকে লক্ষ্য কর। সে দিকে লক্ষ্য করামাত্র তার সর্বাঙ্গে ঘর্মস্রোত প্রবাহিত হবে এবং কেউ যেন ঐ লিপি পড়তে না পারে এজন্য সে ডানে বামে বার বার দেখতে থাকবে। অত:পর কেরাম কাতেবীন প্রস্থান করবেন। তখনই মালাকুল মউত তার ডান পাশে রহমতের ফেরেশতা এবং বাম পাশে আযাবের ফেরেশতা নিয়ে আগমন করবেন। তাদের মধ্যে কেউ আত্মাকে খুব জোরে টানাটানি করবেন, আবার কেউ অতি শান্তির সাথে আত্মা বের করে আনবেন। কন্ঠ পর্যন্ত আত্মা পৌঁছলে স্বয়ং যমদূত তা কবজ করবেন।

Friday, January 26, 2018

কিছু Big Big Achievement

কিছু Achievement এর কথা বলি, যে গুলো না করলে জীবন নাকি ব্যর্থতা পতিত হয়... এই গুলোই জীবনের নাকি সব থেকে বড় অর্জন কিছু এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কাছে...

১) সিগারেট। সিগারেট যে খাই না সে বলে মানুষই না? সিগারেট খাস নাই? জীবনে কি করলি?
আমার প্রশ্ন, সে কী তাদের মতে?

২) মেয়েদের সাথে রুম ডেট / অশ্লীল কাজে লিপ্ত। কে কয়টা মেয়েকে নিয়ে এ বছরে রুম ডেট করলো সেইটা গণনা করে রাখে এবং কিছু অশ্লীল অবস্থা ছবিও তুলে রাখে। সেই গুলো আবার মানুষ  কে দেখাই যে, দেখ আমি এই এই করছি। তাদের ভাষাই এটাকে বলে #_Life_is_Enjoy.

আপনি এই সব করতে পারেন না। আপনাকে সে বলবে যে, কী করলি জীবনে? এমন ভাবে বলবে যে আপনি এইটা না করে মহা ভুল করছেন।
আপনি তার কাছে হাঁসির পাত্র হবেন।
এই টা তার কাছে সব থেকে বড় Achievement.

৩) মেয়েদের সাথে সেলফি। এইখানে সেইখানে মেয়েদের সাথে সেলফি তোলা এবং কতো যে ডং ছবির মধ্যে। দেখলে মনে হয় ঘরের বউ। সেলফি তোলার সময় কি অবস্থাই আছে সেদিকে খেয়াল নাই।
আপনি মেয়েদের সাথে সেলফি তোলেন না। তাই আপনি তাদের কাছে ক্ষেত পোলা-পান। আপনার কোন যোগ্যতা নাই।

৪) পুরুষ এর বেশধারী নারী। পেন্ট টি-র্শাট পড়লে মেয়েদের অনেক সুন্দর লাগে, নিজেকে প্রকাশ করে শিয়াল 🦊 শকুনের কাছে। নিজের নগ্নতা অন্যের কাছে প্রকাশ করা এটাও বড় Achievement.  পেন্ট টি-র্শাট না পড়লে তো আপনি র্স্মাটই না। এখন আধুনিক যুগ।
আপনি এ গুলো পড়েন না। তাহলে আপনি তাদের কাছে ক্ষেত গাঁইয়া মেয়ে।

বিঃদ্রঃ নিজের মর্যাদা নিজেই রাখুন, নিজের পরিবারে মর্যাদা বজায় রাখুন এবং নিজের নাফ্সকে নিয়ন্ত্র করুন। আপনার বাবা মা আপনাকে নিয়ে গর্ব করে, কিন্তু আপনি কি তার মর্যাদা রক্ষা করতে পারছেন ? দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী।

আপনিও বুঝবেন, কবে তা জানেন??
১) যৌন ফুরালে। আর না হয়...
২) যখন মালাকুল মউত মৃত্যুর ফেরেশতা কাছে আসবে।
তখন আপনার কিছুই করার থাকবে না।
এখনো সময় আছে, আত্মসমর্পণ করুন আল্লাহ কাছে।

Monday, January 15, 2018

মানুষের অন্তর মরে যাওয়ার দশটি কারণ

★ মানুষের অন্তর মরে যাওয়ার দশটি কারণ ★

✿ হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম (রহ.) [মৃত্যু ১৬২ হিজরী] বসরার বাজার দিয়ে যাওয়ার পথে লোকজন তাকে ঘিরে ধরল।তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, হে আবু ইসহাক, আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা দুয়া করি কিন্তু দোয়া কবুল হয় না? তিনি বললেন, কারণ, তোমাদের অন্তরগুলো মরে গেছে দশটি কারণে। সেগুলো হল:

❖ প্রথম: তোমরা আল্লাহর পরিচয় পেয়েছ
কিন্তু তাঁর হক আদায় করো নি।

❖ দ্বিতীয়: তোমরা বলে থাক যে, তোমরা
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসো কিন্তু তার সুন্নত ও আদর্শকে পরিত্যাগ করেছ।

❖ তৃতীয়: তোমরা কোরআন পাঠ করেছ কিন্তু তদনুযায়ী আমল করো নি।

❖ চতুর্থ: তোমরা আল্লাহর নিয়ামত খেয়েছ কিন্তু তার শুকরিয়া আদায় করো নি।

❖ পঞ্চম: তোমরা বলেছ যে, শয়তান তোমাদের দুশমন কিন্তু তাকে সমর্থন করেছো এবং তার অনুসরণ করছ।

❖ ষষ্ঠ: তোমরা স্বীকৃতি দিয়েছো যে,
জান্নাত সত্য কিন্তু তার জন্য আমল করো নি।

❖ সপ্তম: তোমরা স্বীকৃতি দিয়েছ যে,
জাহান্নাম সত্য কিন্তু তা থেকে পলায়ন করো নি।

❖ অষ্টম: তোমরা স্বীকার করেছ যে, মৃত্যু
অবধারিত সত্য। কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করো নি।

❖ নবম: ঘুম থেকে জেগেই তোমরা অন্যের
দোষ-ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছ কিন্তু নিজেদের দোষের কথা ভুলে গেছো।

❖ দশম: তোমরা তোমাদের মৃতদের দাফন
করেছো কিন্তু তাদের থেকে শিক্ষা নাও নি।

(সুত্র: হিলয়াতুল আওলিয়া ১৫/৮-১৬, তাফসীর কুরতুবী ২/২০৮)

হে আমাদের প্রতিপালক, করুণার আধার, তুমি আমাদেরকে তোমার মহান দরবারে প্রত্যাখ্যান করো না। আমাদের দুয়া কবুল করো এবং আমাদের ভুল-ত্রুটি মার্জনা করো। #আমীন

Thursday, January 11, 2018

সূরা বাকারার ফজিলত (সংক্ষিপ্ত অংশ)

সূরা বাকারার ফজিলত (সংক্ষিপ্ত অংশ)

রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ সূরা বাকারাহ্ কোরআনের কূঁজ এবং চূড়। এর এক একটি আয়াতের সঙ্গে ৮০ জন ফেরেশতা উর্ধগগন থেকে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বিশেষ করে "আয়াতুল কুরসি" তো খাস আরশ হতে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এ সূরার সাথে মিলোন হয়েছে।

সূরা ইয়াসিন কোরআনের অন্তর বিশেষ। যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও পরকাল লাভের জন্যে তা পড়ে তাকে ক্ষমা করে দেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা।

প্রত্যেক জিনিসের একটা উচ্চতা থাকে। কোরআন মাজীদের উচ্চতা হচ্ছে "সূরা বাকারাহ্"
প্রত্যেক বস্তুরই সারাংশ আছে এবং কোরআনের সারাংশ হচ্ছে বড় সূরা গুলো।
এই সূরার মধ্যে এমন একটি আয়াত আছে যা, সমস্ত আসমানের নেতা এটি হচ্ছে "আয়াতুল কুরসি"

মুসনাদ-ই-আহমাদ, সহীহ মুসলিম, জামে' তিরমিযী এবং সুনান-ই-নাসাঈর মধ্যে বর্ণিত হাদীসে আছেঃ- তোমার নিজের ঘরকে কবরে পরিণত করো না, যে ঘরে সূরা বাকারাহ্ পাঠ করা হয় সেই ঘরে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না। অন্য একটি হাদীসে আছে যে, যে ঘরে সূরা বাকারাহ্ পাঠ করা হয় সেখান থেকে শয়তান পালায়ন করে।
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যে ঘরে এই বরকতময় সূরাটি পাঠ করা হয়, সেখান হতে শয়তান ছুটে পালিয়ে যায়। সবচেয়ে জঘন্য ও লাঞ্ছিত সেই ঘর যে ঘরে আল্লাহর কিতাব পাঠ করা হয় না।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রাঃ) উক্তি আছে যে, যে ঘরে সূরা বাকারার প্রথম ৪টি আয়াত, আয়াতুল কুরসি, তার পরবর্তী ২টি আয়াত এবং সব শেষের ৩টি আয়াত, একত্রে ১০টি আয়াত পাঠ করা হয়, শয়তান সেই ঘরে ঐ রাতে প্রবেশ করতে পারে না এবং সেই দিন ঐ বাড়ির লোকদের শয়তান অথবা, কোন খারাপ জিনিস কোন ক্ষতি করতে পারে না। এ আয়াত গুলো পাগলের উপর পড়লে তার পাগলামীও দূর হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রিকালে নীরব ক্ষণে, নিজের নিভৃত কক্ষে তা পাঠ করে, ৩ রাত্রি পর্যন্ত শয়তান সেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে না, আর দিনের বেলায় যদি পড়ে তবে ৩ দিন পর্যন্ত শয়তান সেই ঘরে পা দিতে পারে না।

নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ তোমরা অভিনিবেশ সহকারে সূরা বাকারাহ্ শিক্ষা কর। কারণ এর শিক্ষা অতি কল্যাণকর এবং এ শিক্ষা বর্জন অতি বেদনাদায়ক। এমনকি বাতিলপন্থী যাদুকারও এর ক্ষমতা রাখে না।

অতঃপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললেনঃ
(১) সূরা বাকারাহ্।
(২) সূরা আল-ইমরান।
এই ২টি সূরা শিক্ষা কর। এই সূরা ২টি হচ্ছে জ্যোতির্ময় নূর বিশিষ্ট সূরা।

"আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন" #আমিন

বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি থাকলে সংশোধন করে দিবেন। মানুষ মাত্রই ভুল।

ইনশাআল্লাহ বাকি অংশ আস্তে আস্তে বলবো।

Thursday, December 7, 2017

দোষত্রুটি গোপন রাখা

আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলেন, তোমরা মানুষের দোষত্রুটি উদঘাটন কর না।
মানুষের দোষত্রুটি উদঘাটন করা মহা পাপ।
রাসূল (সঃ) মানুষের দোষত্রুটি ঢেকে রাখার চেষ্টা করেছেন এবং যারা চেষ্টা করে তাদের জন্য সরাসরি জান্নাত ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যদি কোন মানুষের দোষত্রুটি ঢেকে রাখে তাহলে আল্লাহ তার দোষত্রুটি ইহকালেও এবং পরকালেও ঢাকবেন। আপনার যতই পাপ হোক, আপনার যদি এ অভ্যাস থাকে যে মানুষের দোষ নিয়ে আপনি বলাবলি করেন না। তাহলে আপনার সব দোষ কে আল্লাহ বিচারের মাঠে ঢেকে দিবেন। বিনিময়ে আপনার জান্নাত হবে। পরকালে তো ঢেকে রাখবেন রাখবেনই এবং ইহকালেও ঢাকবেন। তিনি নিজে দোষত্রুটি ঢেকে রাখার প্রাণপণে চেষ্টা করতেন।

এ ব্যাপারে আপনাদের সামনে একটা হাদীস বলি, তাতে আপনার মনে হবে যে এটা যেন বাস্তব ঘটছেঃ-
মায়েজ আসলামি (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলের (সঃ) এর নিকট এসে বললাম, আল্লাহর রাসূল আমাকে পবিত্র করেন,
তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) বললেন বাড়ি ফিরে যাও, আল্লাহর নিকটে ক্ষমা চাও, তুমি তওবা কর তোমার পাপ ক্ষমা হয়ে যাবে। লোকটি চলে গেল।

একটু গিয়ে আবার ফিরে এসে বলছে আল্লাহর রাসূল (সঃ) আমাক পবিত্র করুন।
তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) বললেন তুমি বাড়ি ফিরে যাও, আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও, তুমি তওবা কর। লোকটি চলে গেল।

কিছু পথ গিয়ে আবার ফিরে এসে বলছে, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) আপনি আমাকে পবিত্র করুন।
তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) বললেন তুমি বাড়ি ফিরে যাও, আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও, তুমি তার নিকটে তওবা কর। লোকটি চলে গেল।

একটু গিয়ে আবার ফিরে এসে বলছে, আল্লাহর রাসূল (সঃ) আমাকে পবিত্র করুন।
তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলছেন লোকটি কি পাগল? আরে আমি বলছি তুমি চলে যাও, ক্ষমা চাও, তওবা কর। আমি বলছি চলে যাও, ও বার বার ফিরে এসে বলছে আমাকে পবিত্র করুন। তাহলে ও কি পাগল যে আমার কথা বুঝে না? সাহাবীগণ বললেন জি না
ও পাগল নয়, ও ভালো মানুষ, আমার তাকে জানি বুঝি।
তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) মন্তব্য করেছেন, তাহলে সে কি মদ পান করেছে? তাই তার মস্তিষ্ক বিকৃত হয়েছে। সে আমার কথা বুঝে না কেনো? তখনই একটা লোক লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে তার মুখে নাক লাগিয়ে মুখটা সোজা রেখে বলছেন জি না, এ মদ পান করে নি, এ ভালো মানুষ।

তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলছেন, তুমি কি জিনা করেছ?
তখন সাহাবি বলেছেন, জী। মানুষ যা বৈধ ভাবে করে, আমি তা অবৈধ ভাবে করেছি। এতএব বিচার করে দেন।

এই পর্যন্ত হাদীস অনুবাদ করার পরে আপনার বিবেকের সাথে আবার হাদীস এর পিছন দিকে ফিরে যাই..... মরা পর্যন্ত এ হাদীস আপনাকে মনে রাখতে হবে জরুরি ভাবে, যে কোন মূল্যে... হাদীসের বাকি অংশ থাক.....

এতক্ষনে আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলেছেন, যে তুমি কি জিনা করেছ? এ কথা তিনি বললেন... তাহলে তিনি প্রথমেই বুঝতে পেরেছিলেন ঘটনা এরকম কিছু আছে।

কই তিনি তো বললেন না প্রথমে; কেন পবিত্র করবো ঘটনা কি?
প্রথম বার বললেন না....
দ্বিতীয় বার বললেন না...
তৃতীয় বার বললেন না...
চতুর্থ বার বললেন না...
চতুর্থ বারে ফিরে এসে না বলে বলছেন; যে সে কী পাগল?
এখনও তো আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলতে পারেন যে ঘটনা কি?
তারপরও না বলে বলছেন যে, লোকটা কি মদ পান করেছে?
তার মানে আল্লাহর রাসূল (সঃ) এখনও বলছেন যে, আমি তোমার ঘটনাটি জানতে চাচ্ছি না। তুমি ফিরে যাও। তোমার কি হয়েছে এ বিষয়ে আমি তোমার কাছে জানতে চাই না। আমি যা বলেছি তুমি তা গ্রহণ কর। কিন্তু ব্যক্তি গ্রহণ করলেন না। শেষ পর্যন্ত যা হওয়ার তাই হল।
বিচার হল... বিবাহিত ছিল... ঘটনা কি? মায়েজ ইবনু মালেক গরিব মানুষ। একজন ধনী মানুষের বাড়িতে কাজ করত, তার নাম হোজ্জাল।
হোজ্জালের স্ত্রীর সাথে মায়েজ ইবনু মালেক অশ্লীল কাজে জরিয়ে পরে। কথাটা মালিক জানতে পারেন। তখন হোজ্জাল তাকে বলেন....
মায়েজ ইবনু মালেক, ঘটনা যখন ঘটেই গেছে, তুমি আল্লাহর রাসূল (সঃ) এর কাছে যাও। গিয়ে বিষয়টি পেশ কর, দেখ তিনি কি বললেন? মালিকের পরামর্শে মায়েজ ইবনু মালেক রাসূলের কাছে এসে কথা প্রকাশ করলেন। শেষ পর্যন্ত যা হওয়ার তাই হল। আল্লাহর রাসূল (সঃ) প্রাণপণে চেষ্টা করলেন তার দোষ ঢেকে রাখার কিন্তু শেষ পর্যন্ত হল না। তার পিড়াপিড়ির কারণে বিচার হলই।

কোন একদিন আল্লাহর রাসূল (সঃ) রাস্তায় হাঁটছেন, আর হোজ্জাল রাস্তা দিয়ে আসছেন, মুখোমুখি দেখা অনেক দিন পরে, আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলছেন হোজ্জাল ... তুমি যদি মায়েজ ইবনু মালেক এর বিষয়টা তোমার কাপড়ে ঢেকে রাখাতে, তাহলে কত ভালো হতো, তোমাকে আমি কি দিয়ে বুঝাই..! কত ভালো হতো তা হিসাব করে বুঝানো যাবে না।
ওখানে একটা শব্দ ব‍্যবহার করা হয়েছে, যা সবাইকে বুঝানো যাবে না ( কত ভালো হতো তা হিসাব করে বুঝানো যাবে না)
তুমি যে কেনো আমার কাছে পাঠালে, আমার কাছে কোন কথা প্রকাশ হলে তার বিচার হয়ই।

তবে আমি চেষ্টা করেছি; শেষ পর্যন্ত হয়নি, তুমি কেনো পাঠালে? ওফ! তুমি যদি না পাঠিয়ে তার ঘটনাটি লুকিয়ে রাখতে, তাহলে যে কত ভালো হতো। কি দিয়ে আপনাকে এই হাদীস বুঝাই..??

বাঙ্গালীদের চালচলনের সাথে আচরণের সাথে, এই হাদীসের কোন মিলই নেই।
বাঙ্গালী এত নিম্ন শ্রেণীর প্রায় মানুষ, আজ থেকে নিয়ে ৪০ বছর পূর্বে কি হয়েছে সেটাও পেপার পত্রিকায় বের করে বিচার করতে চায়।
আর রাস্তা ঘাটে তো আছেই, আপনার যে একটা ঘটনা ঘটেছে, একজন আরেকজনের কাছে বলতে পারলে খুশি হয় ।
এই তো চরিত্র...!!
তাহাজ্জুদ পড়ে জান্নাত কিনব মনে করেছেন?
জি না....!
বহু দূরে জান্নাত বহূ দূরে।
জাহান্নাম সহজ...
জান্নাত সহজ নয়।
জান্নাত খুব কঠিন ব্যাপার।

Friday, November 24, 2017

কুরআন এর ১৭ তম সূরা বনি-ইসরাইল ৩২-৩৩

কুরআন এর ১৭ তম সূরা বনি-ইসরাইল ৩২-৩৩

এই আয়াতটি কুরআনের সেই অংশ যেটি মহানবী (সঃ) এর ১০টি বিখ্যাত আদেশের শামিল। কিছু কিছু সাহাবিগণ বলেছেন এটি মুসা (আঃ)এর মূল নীতি গুলোর মধ্যে একটি। আবার মজার বিষয় হচ্ছে এ সূরার নাম “বনি-ইসরাইল” ইসরাইল এর সন্তানগণ।

এই বিশেষ আয়াতে আল্লাহ বলছেন তোমরা জিনা বা ব্যবিচার এর নিকটবর্তী হয়ো না এবং এর ধারের কাছেও যেয়ো না।

অন্য ভাবে বলা যায় এটা একটা কাজ এবং অনেক গুলো ছোট ছোট আচরণ যে, গুলো কাজটির দিকে নিয়ে যায়। কাজটির একটি পরিধি আছে যা চারপাশে ঘুরতে থাকে এবং আপনি কাজটির ধারের কাছেও যেতে পারবেন না।

কিছু কাজ আছে যা করা হারাম নয়।আপনি আঙ্গুল উঠিয়ে বলতে পারবেন না যে, এই কাজগুলো করা ভুল। কিন্তু যখন আপনি এই কাজে যুক্ত হয়ে যাবেন তখন আপনি মহাকর্ষের টান অনুভব করবেন যে,আস্তে, আস্তে; একটু, একটু করে আপনাকে অবশেষে হারাম কাজের দিকে নিয়ে যাবে এবং সর্বশেষে কাজটি আপনাকে দিয়ে করাবে।

আমরা শয়তানের বিষয়ে একটা জিনিস জানি যে,…
আমি লক্ষ করেছি যে, শয়তান অত্যন্ত দূরোদরশিতা সম্পুর্ন।সে একবারে আপনাকে ধরবে না।সে আপনার কাছে আসবে, এবং আস্তে,আস্তে; একটু..! একটু..! একটু করে আপনার পথ ভ্রষ্ট করবে। যতক্ষন না পর্যন্ত আপনার চরিত্র নষ্ট না করতে পারে।শয়তান আপনার কাছে একবার এসেই খারাপ কিছু করাতে পারে না।

আপনারা জানেন আদম (আঃ) এবং হাওয়া(আঃ) এর গল্পেও শয়তান কি ভাবে ২জন কে জান্নাত থেকে বের করেন।

যে ভাবে অগ্রসর হয়েছিল সূরাতুল “আরাফে” এটি বলা হয়েছে। শয়তান অবিরাম ভাবে একবারই করেনি…ধরুন শয়তান আসলো এবং বলল, হেই..! দেখ গাছটি কি চমৎকার তাই না..? এর পর সে চলে গেল। সে এমনটা করে নাই। সে চরম ভাবে নিরন্তর ছিলো। সে একটু একটু করে পথ ভ্রষ্ট করেছিল এবং তাদের মনের মধ্যে এমন এক ধারনা গেঁথে দিয়েছিল যে, যতক্ষন না তারা মনে করছিল এটা তাদের অভিপ্রায়।

একই সূরাতে আল্লাহ বলছেন “ইন্না ইবাদি লাইসালাকা-আলাইহিম সুলতানা” আমার বান্দাদের উপর শয়তানের কোন কর্তৃত্বই থাকে না।

অন্য ভাবে বলা যায়… যে সকল মানুষ সত্যিকার ভাবে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে তাদের উপর শয়তানের কোনই কতৃত্ব থাকে না।
শয়তানের কথা শুনতে শুরু করলে…. শয়তান আপনাকে আদেশ করবে অশ্লীল, বেহাইয়াপনা কাজ করার জন্য। অন্য ভাবে বলা যায়,
শয়তানের কথা আপনি একটু শুনবেন;
আপনি তাকে একটু শক্তি দিচ্ছেন;
আপনি তার কথা আর একটু ভালো ভাবে শুনবেন তো;
আপনি আর একটু বেশি শক্তি দিবেন।
আর আপনি যখন তার কথা অবিরাম ভাবে শুনতেই থাকবেন। এক সময় সে আপনাকে আদেশ করবে, আপনি নিজেকে এমন ভাবে বলবেন: আমি আমার নিজেকে সাহায্য করতে পারছি না।আমি এটা জানিও না, প্রতি রাতে এটা কিভাবে হয়ে যায়।কেন আমি এগুলা করি।আতঙ্ক ওই সব ওয়েব সাইট গুলো ব্রাউজ বা লগিং করি কেনো…? আপনি যখন লিফটে বা রাস্তাই হেঁটে যান কেনো নিজের চোখ নিচে নামিয়ে রাখতে পারেন না..? আমি নিজেকে সাহায্য করতে পারছি না.. আমি জানি না আমার কি করা উচিৎ?আর আপনি জানেন শয়তান আপনাকে শক্ত ভাবে আকরে ধরে।বদ অভ্যাস যুক্ত চক্রের মধ্যে আপনাকে টেনে নিয়ে যায়।
এটা আস্তে আস্তে খারাপ, আরো খারাপ, আরো খারাপ, আরো অধিকতর খারাপের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।

আপনি যদি এটা শিকার না করেন তাহলে, অধিকতর খারাপের দিকে নিয়ে যায়….. আর এটা আপনার আত্মাকে ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক নির্ভর করে, আপনার অন্তর কতোটা পরিষ্কার তার উপর।

যতবার আপনি অশ্লীল, বেহাইয়াপনাই উদ্ভাসিত হন…. আপনার অন্তর এর উপর আরো ময়লা, আরো অন্ধকার, আরো আবরণ ঢালতেই থাকে এবং ঢালতেই থাকে যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি আল্লাহর কথা শুনবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার চোখ দিয়ে এক ফোটাও পানি আসবে না।কারণ আপনার অন্তর এতোটাই কঠিনে পরিনিত হয়েছে যে, যত অনাবৃত জিনিস দেখেছেন, যত পাপ করেছেন চোখ দিয়ে সব সময়। আর আপনি এর কোন গুরুত্বও দিচ্ছেন না।
একটা সুন্দর হৃদয় যন্ত্রনা গ্রস্থ হয়, যখন অস-মাচিন কিছু একটা দেখে; যা, আল্লাহর নির্দেশের শামিল নয়। এটা আকর্ষিত হয় না বরং যন্ত্রনা গ্রস্থ হয়।

∙◌ সূরার মূল বক্তব্য ফিরে আসি…
“ওয়ালা-তাকরাবুঝ ঝিনাইন্নাহূকা-না ফা-হিশাতাওঁ ওয়া ছাআ ছাবীলা”
আর তোমরা ব্যবিচার এর কাছে যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পখ।

আল্লাহ এটাকে একটা পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, ভয়ংকর পথ।
পথে পদক্ষেপ থাকে ঠিক? পথে মানেই পদক্ষেপ। আপনাকে শনাক্ত করতে হবে আপনি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন?আমরা জানি প্রত্যেকটা কাজের একটি প্রক্রিয়া থাকে। কিছু চক্র থাকে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, অফিস-আদালত ইত্যাদি…..শেষে কয়েক ঘন্টা সময় থাকে আপনার হাতে……. আপনারা জানেন আপনার কিছু বন্ধুও আছে, যাদের সাথে ঘুরছেন, কিন্তু তাদের কোন মান নাই।প্রত্যেকটা সময় আপনাকে শনাক্ত করতে হবে যে, কোন কাজগুলো পাপের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

∙◌ এই আয়াত এর পরে আল্লাহ বলছেন….
“ওয়ালা-তাকতুলুন্নাফছাল্লাতী হাররামাল্লা-হু ইল্লা-বিল হাক্কি”
তোমরা মানুষ হত্যা করো না।

আল্লাহ জিনাকে প্রথম অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন এবং হত্যাকে দ্বিতীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আপনি কী চিন্তা করতে পারছেন?
আপনি হয়তো ভাবছেন হত্যা অনেক বড় অপরাধ….
কিন্তু আল্লাহ বলছেন অন্য মানুষের মর্যাদা লঙ্ঘন করবেন এটি হচ্ছে “ফাহাসা” আপনি যখন মানুষকে নিয়ে এভাবে চিন্তা করবেন, তখন আপনি নিজের এবং তার মর্যাদা লঙ্ঘন করবেন।

আমরা যদি কাউকে হত্যা করি, তাহলে আমরা তাকে শারীরিক ভাবে হত্যা করি।তার বেঁচে থাকার অধিকার লঙ্গন করি।

আর ওটা হচ্ছে আত্মার হত্যা “ফাহাসা”
আর এটি হচ্ছে শারীরিক হত্যা “ফাতর”
তাই আল্লাহ তালা “আত্মার” হত্যার কথা প্রথমে বলেছেন।

আমাদের সবার মন এতো নিচে নেমে গিয়েছে যে, একটা নতুন সিনেমা মুক্তি পেলেই আপনি হয়তো অনেক গুলো টেইলোর দেখে ফেলেছেন। আবার নিজেকে বলছেন “আহ্” এখানে একটা মাত্র খারাপ দৃশ্য আছে… ব্যাপার না।এটা একটা PG-13.। যেটা আগে PG-13. হওয়ার কথা ছিলো এখন সেটা PG কাজেই সব জায়গায় অশ্লীল দৃশ্য। এবং আমরা আত্মার মূল্য হারিয়ে ফেলেছি। আত্মার প্রতি আমাদের যত্নবান হওয়া উচিত।


চোখ দিয়ে তাকানো, চোখের জিনা থেকে বাকি সব শুরু হয়।অন্য সব কিছু এখান থেকে শুরু।
এটা আমাদের নামাজ, দোয়া, চরিত্র, পরিবার এবং পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলছে। এবং আমরা কোন গুরুত্বও দিচ্ছি না।
আমরা মনে করি এটাই জীবন, আমাদেরকে সময় এর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এটা মর্ডান যুগ… তাই ভাবছেন আপনি..? শুধু মনে রাখুন যে, পৃথিবীর মায়া ছাড়িযে কবরে যেতেই হবে। আর কবর যা ছিলো তাই আছে এবং কিয়ামতের আগ পর্যন্ত তাই থাকবে।

পরিশেষে, ছোট মানুষ হয়ে একটা কথা বলিঃ- নিজের মর্যাদা নিজেই রাখুন, নিজের পরিবারে মর্যাদা বজায় রাখুন এবং নিজে নাফ্সকে নিয়ন্ত্র করুন।

যে সংবেদনশীলতা নিয়ে কুরআন এর ভাষা আল্লাহ তালা ব্যবহার করেছেন, আমাদেরকে সেই ভাষা বুঝতে হবে। যাতে করে আমরা আল্লাহর বিজ্ঞতার তারিফ করতে পাড়ি। এবং বুঝতে পাড়ি কিভাবে তিনি আমাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিঃদ্রঃ ভুল- ত্রুটি  থাকলে সংশোধন করে দিবেন।  আরো অনেক সুন্দর সুন্দর কিছু বিষয় বলার ছিলো, কিন্তু বলা হলো না। আর কোনো কিছু লিখে বুঝাতে গেলে অনেক বড় হয়ে যায়।