Saturday, February 10, 2018

আমরা কী সত্যিই মুসলিম না কি নামে মুসলিম?



আমরা কী সত্যিই মুসলিম না কি নামে মুসলিম?

হ্যাঁ আমরা মুসলিম নামে মুসলিম।
এক জন মুসলিম হিসাবে আমাদের কি করার কথা বলা হয়েছে আর আমরা কি করছি...
আমার গর্ব করে বলি আমার মুসলিম, আগে মুসলিম হন তার পরে বলেন যে আমি মুসলিম।

আমি কিছু মানুষকে প্রশ্ন করেছিলাম যে,,
আপনি কেন মুসলিম?
এক জন মুসলিম হিসাবে আপনার কি করা উচিত?
আর আপনি কি করছেন?
অনেকেই অনেক ধরনের কথা বললেন।
কিছু মানুষ চুপ করে ভাবে।
কেউ বলে মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়েছি তাই মুসলিম।

এর আগে এক জন বলছে যে, তাহলে আমাকে কী মুসলিম হতে হবে?
হ্যাঁ: অবশ্যই আপনাকে মুসলিম হতে হবে।
যদি বলেন কেন আমি মুসলিম হবো? আমি তো মুসলিম ঘরের সন্তান আমাকে মুসলিম হতে হবে কেন?

হুম, আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম। যদি বলেন কেন?

আমার জন্মের পর থেকে দেখে আসছি যে, আমাদের দাদা দাদী, নানা নানী, বাবা মা এইটা করছে, বাবা বলছে এটা করো, মা বলছে এটা করো। সেটাই দেখে আমার তাদেরকে অনুসরণ অনুকরণ করছি।

এই যদি আপনি ইহুদি নাসারা বা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের ঘরের সন্তান হতেন?
তাহলে ঠিক তাদেরকেই আপনি অনুসরণ অনুকরণ করতেন। এটাই সত্য।

সর্ব প্রথম আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার কাছে শুকরিয়া আদায় করুন যে, আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আপনাকে মুসলিম ঘরে জন্ম দিয়েছেন।

ইসলামের মৌলিক ৫টি স্তম্ভ হলোঃ-
১) কালেমা শাহাদাত।
"লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌।" স্বাক্ষ‍্য দেয়া।
২) সালাত।
সালাতকে বলা হয় দ্বীনের খুঁটি। খুঁটি ছাড়া যেমন ঘর হয় না, তেমনি সালাত ব্যতীত দ্বীন পরিপূর্ণ হয় না।
প্রত্যেক বালেগ নর-নারীর উপর সালাত ফরজ করা হয়েছে।
৩) সাওম।
৪) হজ্ব ।
৫) যাকাত।

সর্ব প্রথম আপনাকে ঈমান আনতে হবে এক কালেমা "লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌।" স্বাক্ষ‍্য দেয়া। প্রথমে আপনার অন্তরে কালেমার বিজ বপন করতে হবে এবং আল্লাহর আদেশ নির্দেশ, হুকুম আহকাম গুলো যথাযথ ভাবে পালন করতে হবে।

একটা গাছকে জন্ম দিতে হলে আপনাকে কি করতে হবে প্রথমে?
জায়গা নির্বাচন করতে হবে।
তারপরে ধাপে বিজ বপন করতে হবে।
যখন বিজ থেকে গাছ হবে। তখন আপনাকে গাছটাকে যত্ন নিতে হবে। যাতে করে কেউ বিনষ্ট না করতে পারে।
একটা গাছ দাঁড়িয়ে থাকে তার কান্ডর উপরে।
আস্তে আস্তে গাছটা বড় হবে। একটা পর্যায়ে ফুল ফল হবে গাছে।

মূল গল্পে আসা যাক:

• জায়গা নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে আপনি কে? কি করতে আসছেন এই পৃথিবীতে? কেন আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? যদি আপনি বোঝেন নিজেকে তাহলে আমাকে বিজ বপন করতে হবে।
• ‎
• ‎তারপরে ধাপে "বিজ বপন করতে হবে"। অর্থাৎ কালেমা শাহাদাত।
"লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌।"অন্তর থেকে মনে প্রাণে স্বাক্ষ‍্য দিতে হবে।

• যখন বিজ থেকে গাছ হবে। তখন আপনাকে গাছটাকে যত্ন নিতে হবে। যাতে করে কেউ বিনষ্ট না করতে পারে। আস্তে আস্তে গাছটা বড় হবে। অর্থাৎ আপনি যখন ঈমান আনবেন আপনার উপর ঝড়-ঝাপটা আসবে। শয়তানের বিভিন্ন কুপ্রবৃত্তি আসতে পারে। নিজের ঈমানকে ঠিক রাখতে হবে।
• ‎একটা গাছ দাঁড়িয়ে থাকে তার কান্ডর উপরে। অর্থাৎ কান্ড হচ্ছে আপনার সালাত। একটা গাছ যেমন কান্ড ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না । তেমনি ভাবে, সালাত ছাড়া আপনি ঈমান ঠিক রাখতে পারবেনা। সালাতকে ধরে রাখতে হবে।
• ‎আর "ফুল ফল" হচ্ছে আপনার আমল।
• ‎এক জন মুসলিমের অবশ্যই  রমযান মাসে সাওম পালন করতে হবে।
• ‎হজ্ব এবং যাকাত যার উপর ফরজ তারাই শুধু আদায় করবে।

• আমরা মুখেই শুধু বলি যে আমরা মুসলিম, অন্তরে বলি না।
কিছু মানুষের ফেসবুকে প্রোফাইলে দেখি।
I Love Allah.
I Love Mohammad (S). And etc.
এগুলা ওই ভাবেই লিখে রাখি শুধু, কাজের বেলায় দেখা যায় কী?
আমরা অনুসরণ অনুকরণ করি ইহুদি নাসারা দের। আপনি দেখেন এদের ফেসবুক যে কাকে অনুসরণ করছে?

• আজকের দিনে আপনি দেখুন চারিদিকে, পুরুষ এর কি অবস্থা, পুরুষ এর পেন্ট খুলে নিচে চলে যাচ্ছে। চুল দাড়ি এর যে কতো মডেল। ইহুদি নাসারা যে ভাবে স্টাইল করে, সেইটা করি আমরা। আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।

 • নারীর কি অবস্থা। যত দিন যাচ্ছে ততই নারী উলঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। কাকে দেখে এগুলো শিখছে ? ইহুদি নাসারা দের দেখে নিজেকে উলঙ্গ করছে।
 ‎আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।
 ‎
 • আমরা অশ্লীল ভিডিও ছবি কিছুই মনে করি না। এখন P.G 13
 ‎এগুলোকে কেউ পাপ মনে করি না।
 ‎আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।
 ‎
 • Ramp Show:
 ‎নিজের নগ্নতা তুলে ধরছি বিশ্বের কাছে। এইটা নাকি সৌন্দর্য্য।
 ‎আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।
 ‎
• সন্তানদের গান বাজনা, নাচ শিক্ষা দিচ্ছি।
 ‎আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।
 ‎
• মানুষের দোষ ত্রুটি খুঁজে বের করার জন্য উঠে পড়ে লাগি।
 ‎আমরা মুসলিম, নামে মুসলিম।

আমরা আল্লাহ্ এবং আল্লাহর রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে অনুসরণ অনুকরণ করি না।
করি ইহুদি নাসারা দের।
 ‎
 ‎আপনি নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করেন... তাই তো?
 ‎এক কালেমার উপর কি ঈমান এনেছেন?
 ‎সেই অনুসারে কি আপনি চলেন?
 ‎

আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলছেনঃ-
সূরা আল ইমরান (১০২)
يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَموتُنَّ إِلّا وَأَنتُم مُسلِمونَ

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।

আপনি একটু ভেবে দেখুন যে আপনি কী সত্যিই মুসলিম? নাকি নামে মুসলিম?
এক জন মুসলিমের যা করা উচিত তা কি আপনি করেন বা করার চেষ্টা করেন?

আল্লাহ বলেছেন যে, "মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।" আপনি কি আল্লাহর কথা বুঝতে পারছেন? আল্লাহ কি বলছেন? কতো বড় একটা কথা।

সূরা আল বাকারাহ্ঃ ৮,৯,১০
আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়।

তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না।

তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন।

বিঃদ্রঃ আপনার আমার থেকে অনেক বড় জ্ঞান  বিদ্যা বুদ্ধিতে দয়া করে ভুল ত্রুটি থাকলে সংশোধন করে দিবেন। আমরা জ্ঞান এর পরিসীমা অনেক ক্ষুদ্র।

Sunday, January 28, 2018

মৃত্যুর সংবাদ

#_মৃত্যুর পূর্বে ৪ জন ফেরেশতা যেভাবে জানিয়ে দিবে #_মৃত্যুর_সংবাদ

হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন মানুষের অন্তিমকাল উপস্থিত হয় এবং রূহ বের হবার সময় ঘনিয়ে আসে, তখন চারজন ফেরেশতা তার কাছে উপস্থিত হয়। সর্বপ্রথম এক ফেরেশতা উপস্থিত হয়ে বলবেন “আসসালামু আলাইকুম” হে অমুক! আমি তোমার খাদ্য সংস্থানের কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন পৃথিবীর পূর্ব থেক পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অন্বেষণ করেও তোমার জন্য এক দানা খাদ্য সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং বুঝলাম তোমার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে হয়ত এখনই তোমাকে মরণ সুধা পান করতে হবে। পৃথিবীতে তুমি আর বেশীক্ষণ থাকবে না।

অত:পর দ্বিতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পানীয় সরবরাহের জন্য নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু এখন তোমার জন্য পৃথিবীর সবৃত্র অন্বেষণ করেও এক ফোঁটা পানি সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং আমি বিদায় হলাম।

অত:পর তৃতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পদযুগলের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু পৃথিবীর সর্বত্র ঘুরেও তোমার জন্য একটি মাত্র পদক্ষেপের স্থান পেলাম না। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।

চতুর্থ ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহ বান্দা! আমি তোমার শ্বাস-প্রস্বাস চালু রাখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু আজ পৃথিবীর এমন কোন জায়গা খুঁজে পেলাম না  যেখানে গিয়ে তুমি মাত্র এক পলকের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করতে পার। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।

অত:পর কেরামান কাতেবীন ফেরশতাদ্বয় এসে সালাম করে বলবেন, হে আল্লাহর বান্দা! আমরা তোমার পাপ-পূণ্য লেখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন দুনিয়ার সব জায়গা সন্ধান করেও আর কোন পাপ-পূণ্য খুঁজে পেলাম না। সুতরাং আমরা বিদায় নিচ্ছি। এই বলে তারা এক টুকরা কালো লিপি বের করে দিয়ে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! এর দিকে লক্ষ্য কর। সে দিকে লক্ষ্য করামাত্র তার সর্বাঙ্গে ঘর্মস্রোত প্রবাহিত হবে এবং কেউ যেন ঐ লিপি পড়তে না পারে এজন্য সে ডানে বামে বার বার দেখতে থাকবে। অত:পর কেরাম কাতেবীন প্রস্থান করবেন। তখনই মালাকুল মউত তার ডান পাশে রহমতের ফেরেশতা এবং বাম পাশে আযাবের ফেরেশতা নিয়ে আগমন করবেন। তাদের মধ্যে কেউ আত্মাকে খুব জোরে টানাটানি করবেন, আবার কেউ অতি শান্তির সাথে আত্মা বের করে আনবেন। কন্ঠ পর্যন্ত আত্মা পৌঁছলে স্বয়ং যমদূত তা কবজ করবেন।

Friday, January 26, 2018

কিছু Big Big Achievement

কিছু Achievement এর কথা বলি, যে গুলো না করলে জীবন নাকি ব্যর্থতা পতিত হয়... এই গুলোই জীবনের নাকি সব থেকে বড় অর্জন কিছু এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কাছে...

১) সিগারেট। সিগারেট যে খাই না সে বলে মানুষই না? সিগারেট খাস নাই? জীবনে কি করলি?
আমার প্রশ্ন, সে কী তাদের মতে?

২) মেয়েদের সাথে রুম ডেট / অশ্লীল কাজে লিপ্ত। কে কয়টা মেয়েকে নিয়ে এ বছরে রুম ডেট করলো সেইটা গণনা করে রাখে এবং কিছু অশ্লীল অবস্থা ছবিও তুলে রাখে। সেই গুলো আবার মানুষ  কে দেখাই যে, দেখ আমি এই এই করছি। তাদের ভাষাই এটাকে বলে #_Life_is_Enjoy.

আপনি এই সব করতে পারেন না। আপনাকে সে বলবে যে, কী করলি জীবনে? এমন ভাবে বলবে যে আপনি এইটা না করে মহা ভুল করছেন।
আপনি তার কাছে হাঁসির পাত্র হবেন।
এই টা তার কাছে সব থেকে বড় Achievement.

৩) মেয়েদের সাথে সেলফি। এইখানে সেইখানে মেয়েদের সাথে সেলফি তোলা এবং কতো যে ডং ছবির মধ্যে। দেখলে মনে হয় ঘরের বউ। সেলফি তোলার সময় কি অবস্থাই আছে সেদিকে খেয়াল নাই।
আপনি মেয়েদের সাথে সেলফি তোলেন না। তাই আপনি তাদের কাছে ক্ষেত পোলা-পান। আপনার কোন যোগ্যতা নাই।

৪) পুরুষ এর বেশধারী নারী। পেন্ট টি-র্শাট পড়লে মেয়েদের অনেক সুন্দর লাগে, নিজেকে প্রকাশ করে শিয়াল 🦊 শকুনের কাছে। নিজের নগ্নতা অন্যের কাছে প্রকাশ করা এটাও বড় Achievement.  পেন্ট টি-র্শাট না পড়লে তো আপনি র্স্মাটই না। এখন আধুনিক যুগ।
আপনি এ গুলো পড়েন না। তাহলে আপনি তাদের কাছে ক্ষেত গাঁইয়া মেয়ে।

বিঃদ্রঃ নিজের মর্যাদা নিজেই রাখুন, নিজের পরিবারে মর্যাদা বজায় রাখুন এবং নিজের নাফ্সকে নিয়ন্ত্র করুন। আপনার বাবা মা আপনাকে নিয়ে গর্ব করে, কিন্তু আপনি কি তার মর্যাদা রক্ষা করতে পারছেন ? দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী।

আপনিও বুঝবেন, কবে তা জানেন??
১) যৌন ফুরালে। আর না হয়...
২) যখন মালাকুল মউত মৃত্যুর ফেরেশতা কাছে আসবে।
তখন আপনার কিছুই করার থাকবে না।
এখনো সময় আছে, আত্মসমর্পণ করুন আল্লাহ কাছে।

Monday, January 15, 2018

মানুষের অন্তর মরে যাওয়ার দশটি কারণ

★ মানুষের অন্তর মরে যাওয়ার দশটি কারণ ★

✿ হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম (রহ.) [মৃত্যু ১৬২ হিজরী] বসরার বাজার দিয়ে যাওয়ার পথে লোকজন তাকে ঘিরে ধরল।তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, হে আবু ইসহাক, আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা দুয়া করি কিন্তু দোয়া কবুল হয় না? তিনি বললেন, কারণ, তোমাদের অন্তরগুলো মরে গেছে দশটি কারণে। সেগুলো হল:

❖ প্রথম: তোমরা আল্লাহর পরিচয় পেয়েছ
কিন্তু তাঁর হক আদায় করো নি।

❖ দ্বিতীয়: তোমরা বলে থাক যে, তোমরা
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসো কিন্তু তার সুন্নত ও আদর্শকে পরিত্যাগ করেছ।

❖ তৃতীয়: তোমরা কোরআন পাঠ করেছ কিন্তু তদনুযায়ী আমল করো নি।

❖ চতুর্থ: তোমরা আল্লাহর নিয়ামত খেয়েছ কিন্তু তার শুকরিয়া আদায় করো নি।

❖ পঞ্চম: তোমরা বলেছ যে, শয়তান তোমাদের দুশমন কিন্তু তাকে সমর্থন করেছো এবং তার অনুসরণ করছ।

❖ ষষ্ঠ: তোমরা স্বীকৃতি দিয়েছো যে,
জান্নাত সত্য কিন্তু তার জন্য আমল করো নি।

❖ সপ্তম: তোমরা স্বীকৃতি দিয়েছ যে,
জাহান্নাম সত্য কিন্তু তা থেকে পলায়ন করো নি।

❖ অষ্টম: তোমরা স্বীকার করেছ যে, মৃত্যু
অবধারিত সত্য। কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করো নি।

❖ নবম: ঘুম থেকে জেগেই তোমরা অন্যের
দোষ-ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছ কিন্তু নিজেদের দোষের কথা ভুলে গেছো।

❖ দশম: তোমরা তোমাদের মৃতদের দাফন
করেছো কিন্তু তাদের থেকে শিক্ষা নাও নি।

(সুত্র: হিলয়াতুল আওলিয়া ১৫/৮-১৬, তাফসীর কুরতুবী ২/২০৮)

হে আমাদের প্রতিপালক, করুণার আধার, তুমি আমাদেরকে তোমার মহান দরবারে প্রত্যাখ্যান করো না। আমাদের দুয়া কবুল করো এবং আমাদের ভুল-ত্রুটি মার্জনা করো। #আমীন

Thursday, January 11, 2018

সূরা বাকারার ফজিলত (সংক্ষিপ্ত অংশ)

সূরা বাকারার ফজিলত (সংক্ষিপ্ত অংশ)

রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ সূরা বাকারাহ্ কোরআনের কূঁজ এবং চূড়। এর এক একটি আয়াতের সঙ্গে ৮০ জন ফেরেশতা উর্ধগগন থেকে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বিশেষ করে "আয়াতুল কুরসি" তো খাস আরশ হতে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এ সূরার সাথে মিলোন হয়েছে।

সূরা ইয়াসিন কোরআনের অন্তর বিশেষ। যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও পরকাল লাভের জন্যে তা পড়ে তাকে ক্ষমা করে দেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা।

প্রত্যেক জিনিসের একটা উচ্চতা থাকে। কোরআন মাজীদের উচ্চতা হচ্ছে "সূরা বাকারাহ্"
প্রত্যেক বস্তুরই সারাংশ আছে এবং কোরআনের সারাংশ হচ্ছে বড় সূরা গুলো।
এই সূরার মধ্যে এমন একটি আয়াত আছে যা, সমস্ত আসমানের নেতা এটি হচ্ছে "আয়াতুল কুরসি"

মুসনাদ-ই-আহমাদ, সহীহ মুসলিম, জামে' তিরমিযী এবং সুনান-ই-নাসাঈর মধ্যে বর্ণিত হাদীসে আছেঃ- তোমার নিজের ঘরকে কবরে পরিণত করো না, যে ঘরে সূরা বাকারাহ্ পাঠ করা হয় সেই ঘরে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না। অন্য একটি হাদীসে আছে যে, যে ঘরে সূরা বাকারাহ্ পাঠ করা হয় সেখান থেকে শয়তান পালায়ন করে।
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যে ঘরে এই বরকতময় সূরাটি পাঠ করা হয়, সেখান হতে শয়তান ছুটে পালিয়ে যায়। সবচেয়ে জঘন্য ও লাঞ্ছিত সেই ঘর যে ঘরে আল্লাহর কিতাব পাঠ করা হয় না।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রাঃ) উক্তি আছে যে, যে ঘরে সূরা বাকারার প্রথম ৪টি আয়াত, আয়াতুল কুরসি, তার পরবর্তী ২টি আয়াত এবং সব শেষের ৩টি আয়াত, একত্রে ১০টি আয়াত পাঠ করা হয়, শয়তান সেই ঘরে ঐ রাতে প্রবেশ করতে পারে না এবং সেই দিন ঐ বাড়ির লোকদের শয়তান অথবা, কোন খারাপ জিনিস কোন ক্ষতি করতে পারে না। এ আয়াত গুলো পাগলের উপর পড়লে তার পাগলামীও দূর হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রিকালে নীরব ক্ষণে, নিজের নিভৃত কক্ষে তা পাঠ করে, ৩ রাত্রি পর্যন্ত শয়তান সেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে না, আর দিনের বেলায় যদি পড়ে তবে ৩ দিন পর্যন্ত শয়তান সেই ঘরে পা দিতে পারে না।

নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ তোমরা অভিনিবেশ সহকারে সূরা বাকারাহ্ শিক্ষা কর। কারণ এর শিক্ষা অতি কল্যাণকর এবং এ শিক্ষা বর্জন অতি বেদনাদায়ক। এমনকি বাতিলপন্থী যাদুকারও এর ক্ষমতা রাখে না।

অতঃপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললেনঃ
(১) সূরা বাকারাহ্।
(২) সূরা আল-ইমরান।
এই ২টি সূরা শিক্ষা কর। এই সূরা ২টি হচ্ছে জ্যোতির্ময় নূর বিশিষ্ট সূরা।

"আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন" #আমিন

বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি থাকলে সংশোধন করে দিবেন। মানুষ মাত্রই ভুল।

ইনশাআল্লাহ বাকি অংশ আস্তে আস্তে বলবো।

Thursday, December 7, 2017

দোষত্রুটি গোপন রাখা

আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলেন, তোমরা মানুষের দোষত্রুটি উদঘাটন কর না।
মানুষের দোষত্রুটি উদঘাটন করা মহা পাপ।
রাসূল (সঃ) মানুষের দোষত্রুটি ঢেকে রাখার চেষ্টা করেছেন এবং যারা চেষ্টা করে তাদের জন্য সরাসরি জান্নাত ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যদি কোন মানুষের দোষত্রুটি ঢেকে রাখে তাহলে আল্লাহ তার দোষত্রুটি ইহকালেও এবং পরকালেও ঢাকবেন। আপনার যতই পাপ হোক, আপনার যদি এ অভ্যাস থাকে যে মানুষের দোষ নিয়ে আপনি বলাবলি করেন না। তাহলে আপনার সব দোষ কে আল্লাহ বিচারের মাঠে ঢেকে দিবেন। বিনিময়ে আপনার জান্নাত হবে। পরকালে তো ঢেকে রাখবেন রাখবেনই এবং ইহকালেও ঢাকবেন। তিনি নিজে দোষত্রুটি ঢেকে রাখার প্রাণপণে চেষ্টা করতেন।

এ ব্যাপারে আপনাদের সামনে একটা হাদীস বলি, তাতে আপনার মনে হবে যে এটা যেন বাস্তব ঘটছেঃ-
মায়েজ আসলামি (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলের (সঃ) এর নিকট এসে বললাম, আল্লাহর রাসূল আমাকে পবিত্র করেন,
তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) বললেন বাড়ি ফিরে যাও, আল্লাহর নিকটে ক্ষমা চাও, তুমি তওবা কর তোমার পাপ ক্ষমা হয়ে যাবে। লোকটি চলে গেল।

একটু গিয়ে আবার ফিরে এসে বলছে আল্লাহর রাসূল (সঃ) আমাক পবিত্র করুন।
তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) বললেন তুমি বাড়ি ফিরে যাও, আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও, তুমি তওবা কর। লোকটি চলে গেল।

কিছু পথ গিয়ে আবার ফিরে এসে বলছে, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) আপনি আমাকে পবিত্র করুন।
তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) বললেন তুমি বাড়ি ফিরে যাও, আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও, তুমি তার নিকটে তওবা কর। লোকটি চলে গেল।

একটু গিয়ে আবার ফিরে এসে বলছে, আল্লাহর রাসূল (সঃ) আমাকে পবিত্র করুন।
তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলছেন লোকটি কি পাগল? আরে আমি বলছি তুমি চলে যাও, ক্ষমা চাও, তওবা কর। আমি বলছি চলে যাও, ও বার বার ফিরে এসে বলছে আমাকে পবিত্র করুন। তাহলে ও কি পাগল যে আমার কথা বুঝে না? সাহাবীগণ বললেন জি না
ও পাগল নয়, ও ভালো মানুষ, আমার তাকে জানি বুঝি।
তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) মন্তব্য করেছেন, তাহলে সে কি মদ পান করেছে? তাই তার মস্তিষ্ক বিকৃত হয়েছে। সে আমার কথা বুঝে না কেনো? তখনই একটা লোক লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে তার মুখে নাক লাগিয়ে মুখটা সোজা রেখে বলছেন জি না, এ মদ পান করে নি, এ ভালো মানুষ।

তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলছেন, তুমি কি জিনা করেছ?
তখন সাহাবি বলেছেন, জী। মানুষ যা বৈধ ভাবে করে, আমি তা অবৈধ ভাবে করেছি। এতএব বিচার করে দেন।

এই পর্যন্ত হাদীস অনুবাদ করার পরে আপনার বিবেকের সাথে আবার হাদীস এর পিছন দিকে ফিরে যাই..... মরা পর্যন্ত এ হাদীস আপনাকে মনে রাখতে হবে জরুরি ভাবে, যে কোন মূল্যে... হাদীসের বাকি অংশ থাক.....

এতক্ষনে আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলেছেন, যে তুমি কি জিনা করেছ? এ কথা তিনি বললেন... তাহলে তিনি প্রথমেই বুঝতে পেরেছিলেন ঘটনা এরকম কিছু আছে।

কই তিনি তো বললেন না প্রথমে; কেন পবিত্র করবো ঘটনা কি?
প্রথম বার বললেন না....
দ্বিতীয় বার বললেন না...
তৃতীয় বার বললেন না...
চতুর্থ বার বললেন না...
চতুর্থ বারে ফিরে এসে না বলে বলছেন; যে সে কী পাগল?
এখনও তো আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলতে পারেন যে ঘটনা কি?
তারপরও না বলে বলছেন যে, লোকটা কি মদ পান করেছে?
তার মানে আল্লাহর রাসূল (সঃ) এখনও বলছেন যে, আমি তোমার ঘটনাটি জানতে চাচ্ছি না। তুমি ফিরে যাও। তোমার কি হয়েছে এ বিষয়ে আমি তোমার কাছে জানতে চাই না। আমি যা বলেছি তুমি তা গ্রহণ কর। কিন্তু ব্যক্তি গ্রহণ করলেন না। শেষ পর্যন্ত যা হওয়ার তাই হল।
বিচার হল... বিবাহিত ছিল... ঘটনা কি? মায়েজ ইবনু মালেক গরিব মানুষ। একজন ধনী মানুষের বাড়িতে কাজ করত, তার নাম হোজ্জাল।
হোজ্জালের স্ত্রীর সাথে মায়েজ ইবনু মালেক অশ্লীল কাজে জরিয়ে পরে। কথাটা মালিক জানতে পারেন। তখন হোজ্জাল তাকে বলেন....
মায়েজ ইবনু মালেক, ঘটনা যখন ঘটেই গেছে, তুমি আল্লাহর রাসূল (সঃ) এর কাছে যাও। গিয়ে বিষয়টি পেশ কর, দেখ তিনি কি বললেন? মালিকের পরামর্শে মায়েজ ইবনু মালেক রাসূলের কাছে এসে কথা প্রকাশ করলেন। শেষ পর্যন্ত যা হওয়ার তাই হল। আল্লাহর রাসূল (সঃ) প্রাণপণে চেষ্টা করলেন তার দোষ ঢেকে রাখার কিন্তু শেষ পর্যন্ত হল না। তার পিড়াপিড়ির কারণে বিচার হলই।

কোন একদিন আল্লাহর রাসূল (সঃ) রাস্তায় হাঁটছেন, আর হোজ্জাল রাস্তা দিয়ে আসছেন, মুখোমুখি দেখা অনেক দিন পরে, আল্লাহর রাসূল (সঃ) বলছেন হোজ্জাল ... তুমি যদি মায়েজ ইবনু মালেক এর বিষয়টা তোমার কাপড়ে ঢেকে রাখাতে, তাহলে কত ভালো হতো, তোমাকে আমি কি দিয়ে বুঝাই..! কত ভালো হতো তা হিসাব করে বুঝানো যাবে না।
ওখানে একটা শব্দ ব‍্যবহার করা হয়েছে, যা সবাইকে বুঝানো যাবে না ( কত ভালো হতো তা হিসাব করে বুঝানো যাবে না)
তুমি যে কেনো আমার কাছে পাঠালে, আমার কাছে কোন কথা প্রকাশ হলে তার বিচার হয়ই। 

তবে আমি চেষ্টা করেছি; শেষ পর্যন্ত হয়নি, তুমি কেনো পাঠালে? ওফ! তুমি যদি না পাঠিয়ে তার ঘটনাটি লুকিয়ে রাখতে, তাহলে যে কত ভালো হতো। কি দিয়ে আপনাকে এই হাদীস বুঝাই..??

বাঙ্গালীদের চালচলনের সাথে আচরণের সাথে, এই হাদীসের কোন মিলই নেই।
বাঙ্গালী এত নিম্ন শ্রেণীর প্রায় মানুষ, আজ থেকে নিয়ে ৪০ বছর পূর্বে কি হয়েছে সেটাও পেপার পত্রিকায় বের করে বিচার করতে চায়।
আর রাস্তা ঘাটে তো আছেই, আপনার যে একটা ঘটনা ঘটেছে, একজন আরেকজনের কাছে বলতে পারলে খুশি হয় ।
এই তো চরিত্র...!!
তাহাজ্জুদ পড়ে জান্নাত কিনব মনে করেছেন?
জি না....!
বহু দূরে জান্নাত বহূ দূরে।
জাহান্নাম সহজ...
জান্নাত সহজ নয়।
জান্নাত খুব কঠিন ব্যাপার।

Friday, November 24, 2017

কুরআন এর ১৭ তম সূরা বনি-ইসরাইল ৩২-৩৩

কুরআন এর ১৭ তম সূরা বনি-ইসরাইল ৩২-৩৩

এই আয়াতটি কুরআনের সেই অংশ যেটি মহানবী (সঃ) এর ১০টি বিখ্যাত আদেশের শামিল। কিছু কিছু সাহাবিগণ বলেছেন এটি মুসা (আঃ)এর মূল নীতি গুলোর মধ্যে একটি। আবার মজার বিষয় হচ্ছে এ সূরার নাম “বনি-ইসরাইল” ইসরাইল এর সন্তানগণ।

এই বিশেষ আয়াতে আল্লাহ বলছেন তোমরা জিনা বা ব্যবিচার এর নিকটবর্তী হয়ো না এবং এর ধারের কাছেও যেয়ো না।

অন্য ভাবে বলা যায় এটা একটা কাজ এবং অনেক গুলো ছোট ছোট আচরণ যে, গুলো কাজটির দিকে নিয়ে যায়। কাজটির একটি পরিধি আছে যা চারপাশে ঘুরতে থাকে এবং আপনি কাজটির ধারের কাছেও যেতে পারবেন না।

কিছু কাজ আছে যা করা হারাম নয়।আপনি আঙ্গুল উঠিয়ে বলতে পারবেন না যে, এই কাজগুলো করা ভুল। কিন্তু যখন আপনি এই কাজে যুক্ত হয়ে যাবেন তখন আপনি মহাকর্ষের টান অনুভব করবেন যে,আস্তে, আস্তে; একটু, একটু করে আপনাকে অবশেষে হারাম কাজের দিকে নিয়ে যাবে এবং সর্বশেষে কাজটি আপনাকে দিয়ে করাবে।

আমরা শয়তানের বিষয়ে একটা জিনিস জানি যে,…
আমি লক্ষ করেছি যে, শয়তান অত্যন্ত দূরোদরশিতা সম্পুর্ন।সে একবারে আপনাকে ধরবে না।সে আপনার কাছে আসবে, এবং আস্তে,আস্তে; একটু..! একটু..! একটু করে আপনার পথ ভ্রষ্ট করবে। যতক্ষন না পর্যন্ত আপনার চরিত্র নষ্ট না করতে পারে।শয়তান আপনার কাছে একবার এসেই খারাপ কিছু করাতে পারে না।

আপনারা জানেন আদম (আঃ) এবং হাওয়া(আঃ) এর গল্পেও শয়তান কি ভাবে ২জন কে জান্নাত থেকে বের করেন।

যে ভাবে অগ্রসর হয়েছিল সূরাতুল “আরাফে” এটি বলা হয়েছে। শয়তান অবিরাম ভাবে একবারই করেনি…ধরুন শয়তান আসলো এবং বলল, হেই..! দেখ গাছটি কি চমৎকার তাই না..? এর পর সে চলে গেল। সে এমনটা করে নাই। সে চরম ভাবে নিরন্তর ছিলো। সে একটু একটু করে পথ ভ্রষ্ট করেছিল এবং তাদের মনের মধ্যে এমন এক ধারনা গেঁথে দিয়েছিল যে, যতক্ষন না তারা মনে করছিল এটা তাদের অভিপ্রায়।

একই সূরাতে আল্লাহ বলছেন “ইন্না ইবাদি লাইসালাকা-আলাইহিম সুলতানা” আমার বান্দাদের উপর শয়তানের কোন কর্তৃত্বই থাকে না।

অন্য ভাবে বলা যায়… যে সকল মানুষ সত্যিকার ভাবে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে তাদের উপর শয়তানের কোনই কতৃত্ব থাকে না।
শয়তানের কথা শুনতে শুরু করলে…. শয়তান আপনাকে আদেশ করবে অশ্লীল, বেহাইয়াপনা কাজ করার জন্য। অন্য ভাবে বলা যায়,
শয়তানের কথা আপনি একটু শুনবেন;
আপনি তাকে একটু শক্তি দিচ্ছেন;
আপনি তার কথা আর একটু ভালো ভাবে শুনবেন তো;
আপনি আর একটু বেশি শক্তি দিবেন।
আর আপনি যখন তার কথা অবিরাম ভাবে শুনতেই থাকবেন। এক সময় সে আপনাকে আদেশ করবে, আপনি নিজেকে এমন ভাবে বলবেন: আমি আমার নিজেকে সাহায্য করতে পারছি না।আমি এটা জানিও না, প্রতি রাতে এটা কিভাবে হয়ে যায়।কেন আমি এগুলা করি।আতঙ্ক ওই সব ওয়েব সাইট গুলো ব্রাউজ বা লগিং করি কেনো…? আপনি যখন লিফটে বা রাস্তাই হেঁটে যান কেনো নিজের চোখ নিচে নামিয়ে রাখতে পারেন না..? আমি নিজেকে সাহায্য করতে পারছি না.. আমি জানি না আমার কি করা উচিৎ?আর আপনি জানেন শয়তান আপনাকে শক্ত ভাবে আকরে ধরে।বদ অভ্যাস যুক্ত চক্রের মধ্যে আপনাকে টেনে নিয়ে যায়।
এটা আস্তে আস্তে খারাপ, আরো খারাপ, আরো খারাপ, আরো অধিকতর খারাপের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।

আপনি যদি এটা শিকার না করেন তাহলে, অধিকতর খারাপের দিকে নিয়ে যায়….. আর এটা আপনার আত্মাকে ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক নির্ভর করে, আপনার অন্তর কতোটা পরিষ্কার তার উপর।

যতবার আপনি অশ্লীল, বেহাইয়াপনাই উদ্ভাসিত হন…. আপনার অন্তর এর উপর আরো ময়লা, আরো অন্ধকার, আরো আবরণ ঢালতেই থাকে এবং ঢালতেই থাকে যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি আল্লাহর কথা শুনবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার চোখ দিয়ে এক ফোটাও পানি আসবে না।কারণ আপনার অন্তর এতোটাই কঠিনে পরিনিত হয়েছে যে, যত অনাবৃত জিনিস দেখেছেন, যত পাপ করেছেন চোখ দিয়ে সব সময়। আর আপনি এর কোন গুরুত্বও দিচ্ছেন না।
একটা সুন্দর হৃদয় যন্ত্রনা গ্রস্থ হয়, যখন অস-মাচিন কিছু একটা দেখে; যা, আল্লাহর নির্দেশের শামিল নয়। এটা আকর্ষিত হয় না বরং যন্ত্রনা গ্রস্থ হয়।

∙◌ সূরার মূল বক্তব্য ফিরে আসি…
“ওয়ালা-তাকরাবুঝ ঝিনাইন্নাহূকা-না ফা-হিশাতাওঁ ওয়া ছাআ ছাবীলা”
আর তোমরা ব্যবিচার এর কাছে যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পখ।

আল্লাহ এটাকে একটা পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, ভয়ংকর পথ।
পথে পদক্ষেপ থাকে ঠিক? পথে মানেই পদক্ষেপ। আপনাকে শনাক্ত করতে হবে আপনি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন?আমরা জানি প্রত্যেকটা কাজের একটি প্রক্রিয়া থাকে। কিছু চক্র থাকে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, অফিস-আদালত ইত্যাদি…..শেষে কয়েক ঘন্টা সময় থাকে আপনার হাতে……. আপনারা জানেন আপনার কিছু বন্ধুও আছে, যাদের সাথে ঘুরছেন, কিন্তু তাদের কোন মান নাই।প্রত্যেকটা সময় আপনাকে শনাক্ত করতে হবে যে, কোন কাজগুলো পাপের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

∙◌ এই আয়াত এর পরে আল্লাহ বলছেন….
“ওয়ালা-তাকতুলুন্নাফছাল্লাতী হাররামাল্লা-হু ইল্লা-বিল হাক্কি”
তোমরা মানুষ হত্যা করো না।

আল্লাহ জিনাকে প্রথম অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন এবং হত্যাকে দ্বিতীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আপনি কী চিন্তা করতে পারছেন?
আপনি হয়তো ভাবছেন হত্যা অনেক বড় অপরাধ….
কিন্তু আল্লাহ বলছেন অন্য মানুষের মর্যাদা লঙ্ঘন করবেন এটি হচ্ছে “ফাহাসা” আপনি যখন মানুষকে নিয়ে এভাবে চিন্তা করবেন, তখন আপনি নিজের এবং তার মর্যাদা লঙ্ঘন করবেন।

আমরা যদি কাউকে হত্যা করি, তাহলে আমরা তাকে শারীরিক ভাবে হত্যা করি।তার বেঁচে থাকার অধিকার লঙ্গন করি।

আর ওটা হচ্ছে আত্মার হত্যা “ফাহাসা”
আর এটি হচ্ছে শারীরিক হত্যা “ফাতর”
তাই আল্লাহ তালা “আত্মার” হত্যার কথা প্রথমে বলেছেন।

আমাদের সবার মন এতো নিচে নেমে গিয়েছে যে, একটা নতুন সিনেমা মুক্তি পেলেই আপনি হয়তো অনেক গুলো টেইলোর দেখে ফেলেছেন। আবার নিজেকে বলছেন “আহ্” এখানে একটা মাত্র খারাপ দৃশ্য আছে… ব্যাপার না।এটা একটা PG-13.। যেটা আগে PG-13. হওয়ার কথা ছিলো এখন সেটা PG কাজেই সব জায়গায় অশ্লীল দৃশ্য। এবং আমরা আত্মার মূল্য হারিয়ে ফেলেছি। আত্মার প্রতি আমাদের যত্নবান হওয়া উচিত।


চোখ দিয়ে তাকানো, চোখের জিনা থেকে বাকি সব শুরু হয়।অন্য সব কিছু এখান থেকে শুরু।
এটা আমাদের নামাজ, দোয়া, চরিত্র, পরিবার এবং পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলছে। এবং আমরা কোন গুরুত্বও দিচ্ছি না।
আমরা মনে করি এটাই জীবন, আমাদেরকে সময় এর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এটা মর্ডান যুগ… তাই ভাবছেন আপনি..? শুধু মনে রাখুন যে, পৃথিবীর মায়া ছাড়িযে কবরে যেতেই হবে। আর কবর যা ছিলো তাই আছে এবং কিয়ামতের আগ পর্যন্ত তাই থাকবে।

পরিশেষে, ছোট মানুষ হয়ে একটা কথা বলিঃ- নিজের মর্যাদা নিজেই রাখুন, নিজের পরিবারে মর্যাদা বজায় রাখুন এবং নিজে নাফ্সকে নিয়ন্ত্র করুন।

যে সংবেদনশীলতা নিয়ে কুরআন এর ভাষা আল্লাহ তালা ব্যবহার করেছেন, আমাদেরকে সেই ভাষা বুঝতে হবে। যাতে করে আমরা আল্লাহর বিজ্ঞতার তারিফ করতে পাড়ি। এবং বুঝতে পাড়ি কিভাবে তিনি আমাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিঃদ্রঃ ভুল- ত্রুটি  থাকলে সংশোধন করে দিবেন।  আরো অনেক সুন্দর সুন্দর কিছু বিষয় বলার ছিলো, কিন্তু বলা হলো না। আর কোনো কিছু লিখে বুঝাতে গেলে অনেক বড় হয়ে যায়।

আমরা কী সত্যিই মুসলিম না কি নামে মুসলিম?

আমরা কী সত্যিই মুসলিম না কি নামে মুসলিম? হ্যাঁ আমরা মুসলিম নামে মুসলিম। এক জন মুসলিম হিসাবে আমাদের কি করার কথা বলা হয়েছে আর আমরা কি...